সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা

0
144

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকাসক্তের প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। খোদ আ’লীগ শিক্ষক নেতা থেকে শুরু করে, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের নেতারাও মাদক সেবন এবং মাদক কারবারিতে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যলয় টর্চার সেলের কমান্ডার খ্যাত জয়ের তত্ত্বাবধানে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং হলগুলোতে মাদক সেবন এবং রমরমা মাদকের কারবারি পরিচালিত হয়। যাকে পেছন থেকে সাপোর্ট দিচ্ছে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা শীর্ষ নেতারা বলে অভিযোগ আছে।

জানা যায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইয়াবা এবং ফেনসিডিলে প্রবণতা বেশি। কর্মচারীদের গাঁজা, ফেনসিডিল। কর্মকর্তাদের মধ্যে গাঁজা, ফেনসিডিল ইয়াবা এবং মদ সেবনের অভিযোগ। শিক্ষকদের মধ্যে মদের এবং ফেনসিডিলের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একাডেমিক ভবন ৪ এর একজন আ’লীগ শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধে সহকর্মীদের সাথে নিয়ে মদের আড্ডা বসানোর অভিযোগ রয়েছে। একই অভিযোগ ২ নং ভবনের একজন সিনিয়র শিক্ষক এবং দুজন জুনিয়র শিক্ষকের অংশগ্রহণ আছে বলে বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। খবরঃ কালের কন্ঠ

কবি হেয়াৎ মামুদ ভবনে ৬ জন শিক্ষকের রুমে এই মাদক সেবন হয়। একাডেমিক ভবন ৩ এ বসে একজন শিক্ষক যার বিরুদ্ধেও মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষকেরা তাদের চেম্বারে, কর্মকর্তারা ক্যাম্পাসের বাইরে বিভিন্ন হোটেল, মাদকের আখরা এবং কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের পাশে এবং ঝোপে-ঝাড়ে মাদক সেবন করে থাকে বলে সূত্র জানায়।

এ ছাড়াও ক্যাম্পাসের ভিতরে এসে বহিরাগতদের বিরুদ্ধেও মাদক সেবনের এই অভিযোগ আছে। তবে বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের কিছু নেতার মদদেই ক্যাম্পাসকে মাদক সেবনের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বানিয়েছে। প্রতিদিন রাত ৮টার পর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত শহীদ মুখতার ইলাহী হলের বিভিন্ন কক্ষে মাদক সেবনের এই আখরা বসে। বঙ্গবন্ধু হলের ছাদে রাত ৮টার পর থেকে রাত ১টা পর্যন্ত বহিরাগতদের নিয়ে গাঁজা সেবন করে থাকে কিছু শিক্ষার্থী। হলের ছাদগুলোতে রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে মাদক এবং গাঁজা সেবনকারীদের উপস্থিতি বাড়ে।

সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের উচ্চপদধারী কিছু নেতা মাদক সেবন এবং ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত বলেও অভিযোগ আছে। সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি এবং সাবেক কমিটির সভাতির মাদক সেবনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয় যা এখনো ইউটিউবে পাওয়া যায়।

তবে কিছু শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ সকল বিষয়ে সরাসরি অবগত এবং প্রমাণাদি থাকা সত্বেও কোনো ধরণের কার্যকরি পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। এসব নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি কিংবা প্রশাসনের কোনো তৎপরতা নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকদের আবাসিক ভবন ডরমেটরির একজন শিক্ষক জানান, কিছুদিন আগে ডরমেটরিতে রাতে মাদক সেবন করে সিঁড়িতে মাতলামী করছিল এক শিক্ষক। এ অবস্থায় তিনি বাসায় যেতে পারছিলেন না। পরে তাকে বাসা পৌঁছে দেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে পুলিশ ফাঁড়ির মাঠের পাশে, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পাশে, বোটানিক্যাল গার্ডেনে, মসজিদের পেছনে বসে গাঁজার আসর।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন