৮ কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় মালিকের স্ত্রী-ছেলেকে তুলে নিয়েছিল পুলিশ সন্ত্রাসীরা!

0
220

গত শুক্রবার রাতে আম্বার গ্রুপের মালিকের শুলশানের বাসভবনে গভীর রাতে সন্ত্রাসী এসপি হারুন হানা দেয়
অভিযোগ উঠেছে, দাবি করা ৮ কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ঢাকার গুলশানের বাসা থেকে গভীর রাতে আম্বার গ্রুপের কর্ণধার শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ও পুত্রকে নারায়ণগঞ্জে তুলে আনে সন্ত্রাসী এসপি হারুন। শুধু তা-ই নয়, ঢাকা ক্লাব থেকে তার ব্যক্তিগত গাড়িটি জব্দ করে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজায় এসপি হারুন।

অভিযোগপত্রে শওকত আজিজ রাসেল উল্লেখ করেন, এসপি হারুন আমাকে গুলশান ক্লাবের লামডা হলে ও গুলশানের কাবাব ফ্যাক্টরি রেস্তোরাঁয় ডেকে নিয়ে দুইবার চাঁদা দাবি করে। ঐ টাকা ডলারে আমেরিকায় এসপি হারুনের নির্ধারিত ঠিকানায় পাঠাতে বলে। টাকা না দিলে আমার ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান আম্বার ডেনিম ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমার কোম্পানির ৪৫ জন কর্মীকে গভীর রাতে গাজীপুর থানায় ধরে নিয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেলে পাঠায় এসপি হারুন।’ এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মাহবুবুর রহমান সে সময় বলেছিলে, ‘অপরাধ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ কিন্তু এসপি হারুনের বিরুদ্ধে কথিত পুলিশের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

রাসেল জানান, ‘গত শুক্রবার রাতে তার শুলশানের বাসভবনে গভীর রাতে এসপি হারুন হানা দেয়। তার সঙ্গে ছিলেন ডিবির পোশাক পরা, সাদা পোশাকধারী ও পুলিশের পোশাক পরা ৬০ থেকে ৭০ জন সহযোগী। বাসভবনে এসপি হারুনের প্রবেশ ও তার স্ত্রী-পুত্রকে তুলে আনার ভিডিও প্রকাশ পেলে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এসপি হারুন ঐ বাসায় ঢুকে সঙ্গীদের ওপরে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে। তার সহযোগীরা রাসেলের স্ত্রী ও পুত্রকে বের করে নিয়ে আসে।

অভিযোগ রয়েছে— সন্ত্রাসী এসপি হারুন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হলেও রাজধানীর বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করত। প্রতি মাসে সে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সে ঢাকায় এসে নিয়মিত গুলশানের লেকশোর হোটেলে বসে। সেখানে বসেই চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে এবং চাঁদার টাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জে চলে যায়। এসপি হারুন নিয়মিতই নাম্বার প্লেটহীন গাড়িতে করে ঢাকায় চলাফেরা করত।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন