প্রবেশপত্র ‘বিক্রি’ করছিল সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ নেতা!

1
315

গাজীপুরের কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজে দুটি শ্রেণীর পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিক্রির অভিযোগ উঠেছে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে। কলেজ প্রশাসন থেকে প্রবেশপত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ৫২০ টাকায় তা বিক্রি করা হচ্ছিল।

এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া তৈরী হলে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ নেতারা প্রবেশপত্র ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে। কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে সোমবার বিকেলে প্রবেশপত্র বিক্রি বন্ধ হয়।

কালের কন্ঠ জানায়, কলেজে ১৪ নভেম্বর থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর নির্বাচনী ও একাদশ শ্রেণীর অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। পরীক্ষার আগে কলেজের শিক্ষকদের মধ্য থেকে তিনজনকে দিয়ে একটি পরীক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি পরীক্ষার সাম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে কলেজ পরিচালনা কমিটির কাছে। সভাপতি বাজেট অনুমোদন করার পর আনুষাঙ্গিক কাজ শুরু করেছে পরীক্ষা কমিটি। সেখানে প্রবেশপত্র বিক্রি সংক্রান্ত বিষয় নেই।
শনিবার কলেজ শাখা সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা পরীক্ষা কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক শহীদ হাসানের কাছে গিয়ে প্রবেশপত্র তাদের কাছে দিয়ে দিতে বলে। প্রবেশপত্র অধ্যক্ষের কাছে আছে জানালে তারা চলে যায়।

এরপর সোমবার সকালে পরীক্ষা কমিটি জানতে পারে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ নেতারা অফিস থেকে প্রবেশপত্র নিয়ে গেছে। তারা পরীক্ষার্থীদের কাছে ৫২০ টাকা করে প্রবেশপত্র বিক্রি করছে। অধ্যক্ষকে বিষয়টি জানালে তিনি  কোন পদক্ষেপ নেননি।
পরীক্ষা কমিটির আহবায়ক সোমবার বিকালে ঘটনাটি জানান কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবলী সাদিককে। তলব করা হলে কলেজ শাখা সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ সভাপতি তানভীর মোল্লা ও সাধারন সম্পাদক লিখন উপস্থিত হয় ইউএনও কার্যালয়ে। প্রথমে তারা প্রবেশপত্র বিক্রি করার কথা অস্বীকার করে। পরে ৬০টি প্রবেশপত্র নেয়ার কথা স্বীকার করে তা দ্রুত ফেরত দিবে বলে জানায়।

কয়েকজন শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষের সহযোগিতায় সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রবেশপত্র অফিস থেকে নিয়ে গেছে। সে কারণে তিনি পরবর্তী পদক্ষেপে গড়িমসি করে। এখন ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শিবলী সাদিক বলেন, ‘একটি ঘটনা ঘটছিল। জানতে পেরে বিষয়টির মিমাংসা করে দিয়েছি। ‘

অভিযোগ বিষয়ে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফেরদৌস মিয়ার মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন