অবৈধভাবে দখলকৃত কাশ্মীরে শ্রমিক সঙ্কটে বাগানেই পচছে আপেল

0
226

অবৈধভাবে ভারত দখলকৃত কাশ্মীরের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ হওয়ার পর ১০০ দিন কেটে গেছে। প্রথমে কার্ফু জারি করে সন্ত্রাসী হিন্দুত্ববাদী ভারত সরকার। এরপর যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাধীনভাবে চলাচল থেকে শুরু করে সর্বত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। যার ফলে কাশ্মীরে স্বাভাবিক জীবনে এক দুর্বিষহ নেমে আসে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমস্যা সৃষ্টি হয় বরাবরের মত। দেশটির একটি আপেল বাগানে গিয়ে দেখা যায়, লাল রঙের আপেল ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সারা বাগানের জমিতে।

এ নিয়ে বাগান-মালিক আমির হুসেনের গলায় হতাশা। তিনি বলেন, রস জমলেই আপেল ভারী হয়ে গাছ থেকে পড়ে যায়। আর মাটিতে পড়লেই সব নষ্ট। সেটি আর বিক্রি হবে না। কিন্তু এ বছর ফল পাড়ারই লোক নেই। সাধারণত অন্য রাজ্যের শ্রমিকরাই কাশ্মীরের বাগানে আপেল পাড়ার কাজ করেন। ভারতীয় আগ্রাসনে প্রাণের ভয়ে তারা কাশ্মীর ছাড়তে শুরু করায় আপেল পাড়ারই লোক নেই। তাই বউ-ছেলেকে নিয়ে আমির নিজেই হাত লাগিয়েছেন। আবার বেচবই বা কোথায়? আমির হুসেনের কপালে তখন থেকেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল। এ বার আপেল বিক্রি হবে তো? এই হতাশায় কাশ্মীরের আপেল বাগানে এ বার সত্যিই রক্তের দাগ।

কাশ্মীরের বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে ৫ আগস্টের পর থেকে এক ট্রাক আপেলও বের হয়নি। ভয়ে আপেল চাষি বা ব্যবসায়ী কেউই মান্ডির পথ মাড়াচ্ছেন না। ৮০ টাকা কেজি দামের কাশ্মীরের সেরা আপেল ২৫-৩০ টাকা দরে বেচে দিতে হচ্ছে রাতের অন্ধকারে।

আপেল ব্যবসায়ী নাজির আহমেদ জানান, গত বছরও কলকাতায় ‘এ-গ্রেড’ আপেল পাঠিয়েছেন। তিনি আফসোস করে বলেন, কাশ্মীরে স্বাধীনতাকামী আন্দোলন তো চলছে নব্বইয়ের দশক থেকে। ২০০৮, ২০১০ সালেও অশান্তি হয়েছে। কিন্তু তখনও আপেল ব্যবসায় ধাক্কা লাগেনি। তবে এবার শুধু আপেল নয়, অবৈধভাবে ৩৭০ রদের ধাক্কা লেগেছে পর্যটন থেকে হস্তশিল্প, ফলের রস থেকে তথ্যপ্রযুক্তি— কাশ্মীরের অর্থনীতির সব ক্ষেত্রেই।

কাশ্মীর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ়ের সভাপতি শেখ আশিক বলেন, গত ১০০ দিনে ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। কাজ হারিয়েছেন অন্তত ১ লাখ মানুষ। ভারতীয় আগ্রাসনের কারণে স্বর্গীয় কাশ্মীরে আজ নরকের ধোঁয়া। এর দায় কি আগ্রাসী ভারত কখনােই এড়াতে পারে?
সুত্রঃ ইনসাফ২৪

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন