পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ব্যর্থ দুর্নীতিগ্রস্ত আইসিবি

0
81

অনিয়ম-দুর্নীতিতে ডুবতে বসা আইসিবি পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ব্যর্থ। রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) গত ১১ বছরে শেয়ারবাজারের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগই বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এ সময়ে অন্তত ২ লাখ বিও (বেনিফিসিয়ারি ওনার্স) হিসাব বন্ধ করে দিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। নিঃস্ব হচ্ছেন লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা বাড়াতে পারে সরকারের নেওয়া এমন কোনো উদ্যোগ সংস্থাটি বাস্তবায়ন করতে পারছে না। যার ফলে প্রায় প্রতিদিনই সূচক হারাচ্ছে শেয়ারবাজার। একই সঙ্গে কমছে বাজার মূলধন। বিনিয়োগকৃত মূলধন হারিয়ে কয়েক বছরে অন্তত ১০ লাখ বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজার ছেড়েছেন। শেয়ারবাজার উন্নয়নে সরকারি ২৬টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি আইসিবি। প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন সময় সংঘটিত প্রায় ২৩৮ কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ আইসিবির সমালোচনা করে বলেন, আইসিবি এখন বিরাট আকার ধারণ করেছে। খরচ হচ্ছে বেশি, লোকবল বেড়েছে। তবে সেখানে কোনো কাজ হচ্ছে না। পুঁজিবাজার গঠনে যে ভূমিকা নেওয়ার কথা ছিল তা নিতে পারছে না। পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে যে প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখার কথা সেটি এখন একটা দুর্বল প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। জানা গেছে, পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে না পারায় বড় ধরনের লোকসানে পড়েছে আইসিবিও। মুনাফার পরিবর্তে চলতি অর্থবছরের তিন মাসের হিসাবে ১৩৪ কোটি টাকা লোকসান গুনেছে প্রতিষ্ঠানটি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সঙ্গে প্রয়োজনের সময় সমন্বয়ও করে না আইসিবি। এদিকে ২০১৯ সালের পুরো সময়টাই চরম মন্দায় কেটেছে পুঁজিবাজারের। আস্থাহীনতায় দেশি বিনিয়োগকারীর শেয়ার বিক্রির পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীও অব্যাহতভাবে শেয়ার বিক্রি করে বাজার ছেড়ে চলে গেছে। গত এক বছরে মূলধন উত্তোলন ও পুঁজিবাজারের বিক্রয়যোগ্য শেয়ারের দাম ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সালে গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন মূলধন উত্তোলন হয়েছে। বিক্রয়যোগ্য শেয়ারের দাম কমেছে প্রায় ৪৮ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। গত এক বছরে মূল্যসূচক কমেছে ৯৬৬ পয়েন্ট। দুই লাখের বেশি বিও হিসাব বন্ধ করেছে বিনিয়োগকারীরা। শুরুতে পুঁজিবাজারে শেয়ার কিনতে সক্রিয় হলেও বছরজুড়ে পিছুটান ছিল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মাঝেও।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর তিন মাসের হিসাব প্রকাশ করেছে আইসিবি। এতে দেখা যায়, বছরের প্রথম তিন মাসে আইসিবির লোকসান হয়েছে ১৩৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আগের বছরের প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা হয়েছিল ২৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সেই হিসাবে এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা তো হয়ইনি, বরং লোকসান বেড়েছে প্রায় পাঁচগুণ। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পুঁজিবাজারে মন্দাবস্থার কারণে আইসিবির লোকসান বেড়েছে। কোম্পানির বছর শেষে লভ্যাংশ থেকে আয় ও ক্যাপিটাল গেইন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ফি, কমিশন ও অন্যান্য ফি থেকেও আয় কমে গেছে।
প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসিবির পরিচালন আয়ে লোকসান হয়েছে ২০৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। আগের বছর এই লোকসানের পরিমাণ ছিল ১৬০ কোটি ৭১ লাখ টাকা। তবে কোম্পানির লভ্যাংশ থেকে আয়, ক্যাপিটাল গেইন, ফি, কমিশন ও সার্ভিস চার্জ থেকে যে আয় তাতে মুনাফায় পৌঁছে যায় আইসিবি। ২০১৮ সালের প্রথম প্রান্তিকে মোট পরিচালন আয় হয়েছিল ৮৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা। তবে এ বছর মোট পরিচালন আয়ে লোকসান হয়েছে ৮১ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

আর্থিক হিসাব অনুযায়ী, লভ্যাংশ থেকে আইসিবির আয় হয়েছে ৬৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা আগের বছর ছিল ৯১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। সেই হিসাবে লভ্যাংশ থেকে আইসিবির আয় কমেছে ২৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন