ইরানে চলছে সাধারণ জনগণের মুরতাদ শিয়া সরকার বিরোধী আন্দোলন

1
504

ইরানে মুরতাদ শিয়া সরকার বিরুধী প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল গত শনিবার। আর গত রবিবার তার তীব্রতা আরও বাড়ল। ইরানের রাজধানী তেহরানের রাজপথ দখলে রাখলেন বিক্ষোভকারীরা।

এক সপ্তাহের মধ্যেই বদলে গেল ইরানের ছবি। সাধারণ মানুষ পথে নেমেছিলেন অ্যামেরিকার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। কারণ মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছিল ইরানের অন্যতম জেনারেল ও হাজারো সুন্নী মুসলিমকে হত্যাকারী মুরতাদ কাসিম সোলেইমানি। কাসিম হত্যার জবাবে ইরানও ইরাকে মার্কিন সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা চালিয়েছিল বলে খবর প্রচারিত হয় বিশ্ব মিডিয়ায়। কিন্তু উক্ত হামলায় মার্কিন সেনাদের হতাহতের কোন স্পষ্ট তথ্যও প্রকাশ করতে পারেনি ইরান, নিজেদের মিডিয়াগুলোর লোক ভোলানো হতাহতের সংবাদ প্রচার ছাড়া বাস্তবতা কতটুকু তাও প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয় ইরান। সাধারণ মানুষ তাতেও সায় দিয়েছিল। কিন্তু সমস্যা হল তার পরেই। যে দিন ইরাকে মিসাইল হামলা চালিয়েছিল ইরান, সে দিনই তেহরান থেকে ওড়া একটি ইউক্রেনের বিমান ভেঙে পড়ে। প্রাথমিক ভাবে ইরান জানায়, যান্ত্রিক গোলযোগে বিমানটি ভেঙে পড়েছে। কিন্তু পরে অ্যামেরিকা, কানাডা এবং যুক্তরাজ্যের চাপে ইরানের সেনা স্বীকার করতে বাধ্য হয়, শনিবার, অর্থাৎ দুর্ঘটনার তিনদিন পরে ইরান এই বিমানটিকে ভূপাতিত করার বিষয়টি স্বীকার করে। ওই দুর্ঘটনায় বিমাটিতে থাকা ১৭৬জন আরোহী ও ক্রুর সবাই নিহত হয়। উল্লেখ্য, বিমানে ৮০ জনেরও বেশি ইরানি নাগরিক ছিল।

ইরান প্রশাসন বিষয়টি স্বীকার করে নেওয়ার পরেই খামেনি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন ইরানের জনগণ। রাস্তায় রাস্তায় প্রতিবাদ শুরু হয়ে যায়। রবিবার যার তীব্রতা অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে। স্লোগান উঠেছে, ‘শত্রু আসলে বাইরে নয়, দেশের ভিতরেই।’ খামেনি সরকারের পদত্যাগের দাবি উঠেছে সর্বত্র। পুড়ানো হয় তার ছবি ও প্রতিকি মুর্তি।

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন