বিতাড়ন আতঙ্কে ভারতের বাংলাদেশীরা, বাড়ছে সীমান্তে পাচার

0
147

ভারতে বসবাসরত বাংলাদেশীরা বলেছে যে বিতর্কিত নাগরিককত্ব আইন পাস ও প্রস্তাবিত জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) ক্রমেই সেখানে একটি মুসলিম-বিদ্বেষী পরিবেশ তৈরি করছে। ফলে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে মানব-পাচার বেড়ে গেছে।

মুসলিম সংখ্যাগুরু বাংলাদেশ, ভারত ও আফগানিস্তানের নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের সহজে নাগরিকত্ব পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে গত ডিসেম্বরে ভারতের পার্লামেন্ট নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) পাস করে।

এতে একটি ঘোষিত সেক্যুলার দেশে ধর্মকে নাগরিকত্ব পাওয়ার হাতিয়ার করায় সমালোচকরা বলছেন যে এটি আসলে একটি মুসলিম বিরোধী আইন। ফলে সিএএ ও এনআরসির বিরুদ্ধে সারা ভারতে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। এসব প্রতিবাদে মুসলমানরা যোগ দিচ্ছে নজিরবিহীন সংখ্যায়।

এদিকে বাংলাদেশ থেকে আসা যেসব মুসলমান দশকের পর দশক ধরে ভারতে রয়েছেন তারা আল-জাজিরাকে বলেন যে সাম্প্রতিক ঘাটনাবলী তাদের প্রতি শত্রুতা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তাদেরকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করছে। এ কাজে প্রায়ই তারা পাচারকারীদের সহায়তা নেয়।

পালিয়ে যাওয়া লোকজনের আশঙ্কা তারা ভারতে থাকলে সরকার তাদেরকে বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে পাঠাবে। আসামসহ দেশের বিভিন্নস্থানে এ ধরনের আটককেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।

পালাতে বাধ্য করা হচ্ছে

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এ সীমান্তে হঠাৎ করেই মানবপাচার ব্যাপক লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

আল জাজিরার বার্নাড স্মিথ জানান যে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে ব্যাপক অনুপ্রবেশ শুরু হয়েছে। আর অনুপ্রবেশের এই ধারটি একমুখি — ভারত থেকে বাংলাদেশমুখি।

গত কয়েক মাসে সীমান্ত রক্ষা বাহিনী পাঁচ শতাধিক লোককে আটক করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে কত মানুষ প্রবেশ করছে তার সঠিক সংখ্যা পাওয়া অসম্ভব। পাচারকারীরা আমাদেরকে বলেছে তারা প্রতিরাতে ৪০-৫০ জন করে সীমান্ত পার করে দিচ্ছে।

ভারত থেকে সম্প্রতি বাংলাদেশে ফিরে আসা প্রায় ৩০ বছর বয়সী যুবক মুনির হাওলাদার আল-জাজিরাকে বলেন যে তিনি শিশুকাল থেকে ভারতে ছিলেন।

তিনি বলেন, তারা দমন অভিযান চালাচ্ছে এবং গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রায় ৬০ জনকে আটক করা হয়েছে। এতে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং আমরা বাংলাদেশে চলে আসার সিদ্ধান্ত নেই।

ভারতীয় ওয়ার্ক পারমিটধারী কুকি বেগম জানান তিনি তার স্বামীর সঙ্গে ১১ বছর ধরে ভারতে ছিলেন।

তিনি বলেন, ভারতের ক্ষমতাসীন দল চায় না সেখানে কোন বাংলাদেশেী থাকুক। তাহলে আমরা কি করবো। আমরা মর্যাদা ও সম্মান নিয়ে থাকতে চাই। তাই চলে এসেছি।

গত মাসে ভারতের বেঙ্গালুরুতে একটি বস্তি গুড়িয়ে দেয়া হলে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। বস্তিতে বাংলাদেশীরা থাকে বলে গুজব রটিয়ে বস্তিটি উচ্ছেদ করা হয়। পরে দেখা গেলো বস্তিবাসীরা ভারতীয় নাগরিক।

ভারত সরকারের হিসাবে প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশী ভারতে বাস করে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে নিয়ে সংগ্রাম করছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর ‘গণহত্যা’ থেকে বাঁচতে এরা পালিয়ে আসে।

সূত্র:

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন