দেওবন্দকে ‘সন্ত্রাসের আঁতুরঘর‘ বলল ভারতীয় মালাউন মন্ত্রী

0
432

উপমহাদেশের ইসলামি শিক্ষার অন্যতম পীঠস্থান বলে সারা বিশ্বে পরিচিত যে দেওবন্দ, তাকে সন্ত্রাসবাদের গঙ্গোত্রী (উৎসস্থল) বা আঁতুরঘর বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় পশুপালন ও মৎস দপ্তরের মন্ত্রী মালাউন গিরিরাজ সিং। তার এ মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন অনেকেই।

এর আগেও তিনি বলেছিলেন যে, এই শহরটি কোনও এক কারণে মুম্বাই হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী হাফিজ সাইদ বা আইএস প্রধান বাগদাদির মতো মানুষ তৈরি করে।

বিবিসি বলছে, গিরিরাজ সিং বিতর্কিত মন্তব্য মাঝে মাঝেই করে থাকেন। কিন্তু বিখ্যাত এই ইসলামি প্রতিষ্ঠান সন্ত্রাসবাদীদের জন্ম দেয় বলায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মন্তব্যের নিন্দা করছেন দেওবন্দ দারুল উলুমের প্রাক্তন ছাত্র থেকে বুদ্ধিজীবি – অনেকেই।

খবরে বলা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দ শহরে গতকাল বুধবার একটি সভায় যোগ দিতে গিয়ে সিং বলেন, ‘এই দেওবন্দ সন্ত্রাসবাদের গঙ্গোত্রী। সারা বিশ্বে যত বড় বড় সন্ত্রাসবাদী জন্ম নিয়েছে – যেমন হাফিজ সৈয়দ – এই সব লোক এখান থেকেই বের হয়।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী সিংয়ের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘দেওবন্দকে যদি সন্ত্রাসবাদী বলা হয়, আমি বলব মোদির বন্ধু (সিং), সৌদি আরবের রাজা সালমান, সেখানকার ইমামদেরকে এ কথাটা গিয়ে বলুন না একবার। সেখানকার ইমামরা যা শিক্ষা দেন, দেওবন্দও সেই শিক্ষা দেয়। তাহলে সৌদির ইমামরাও সন্ত্রাসবাদী! বুকের পাটা থাকলে একবার সৌদি আরবে গিয়ে বা মক্কা শরিফে গিয়ে বলুন না এই কথাটা।’

তিনি আরো বলেন, যে প্রতিষ্ঠানকে সন্ত্রাসবাদের উৎস বলা হচ্ছে, সেখানে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ গিয়েছিলেন – কারণ দারুল উলুমের তৎকালীন প্রধান সাইফুল ইসলাম হুসেইন আহমেদ মাদানী রাজেন্দ্র প্রসাদের সঙ্গে একই জেলে বন্দী ছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে।

অন্যদিকে, কলকাতার শিক্ষাবিদ মীরাতুন নাহার বলেন, গঙ্গোত্রী শব্দটা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে এখানে এবং তা সুপরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে সারা দেশের মানুষের কাছে মুসলমানদের শত্রু প্রতিপন্ন করে তোলার জন্য।

অন্যদিকে, পার্সটুডের প্রতিবেদন বলছে, গিরিরাজ সিংয়ের বিতর্কিত মন্তব্য সম্পর্কে সাহারানপুর লোকসভার এমপি হাজী ফজলুর রহমান তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য লজ্জাজনক! এর যত নিন্দাই করা হোক তা কম হবে। দেওবন্দ হলো সেই জায়গা যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিল, এখানকার ওলামারা মার খেয়েছিলেন, ফাঁসির দড়িকে চুম্বন করেছিলেন, কারাগারে বন্দি থেকেছেন এবং শহীদ হয়েছিলেন।’

বিজেপি নেতার সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, এদের নেতা স্বাধীনতা সংগ্রামের লড়াইয়ে ব্রিটিশদের সহায়তা করেছিলেন এবং ব্রিটিশদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি অনুগত থাকবেন এবং এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে জেল থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। এ ছাড়া ব্রিটিশ সরকারের প্রতি অনুগত থাকবেন, ব্রিটিশ সরকারকে সহায়তা করবেন এবং হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিদ্বেষের প্রাচীর গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন। সেই এজেন্ডা অনুযায়ী দেশ স্বাধীন হওয়ার পর গিরিরাজ সিং, সংঘ পরিবার ও বিজেপির সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা ওই কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন