জামিয়া মিল্লিয়ার শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরিতে ঢুকে পেটাচ্ছে মালাউন পুলিশ, সিসিটিভির ভিডিও ভাইরাল

0
326

ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর প্রতিবাদ করার সময় দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় দিল্লি পুলিশ। গতবছরের ১৫ ডিসেম্বর তথা দু’মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি তাণ্ডবের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে খো যায়, লাইব্রেরিতে এক জায়গায় এক সঙ্গে গোল হয়ে বসে রয়েছেন অনেকে। আবার বই-খাতা খুলে একাই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন কেউ কেউ। এমন অবস্থায় লাইব্রেরির মধ্যে উর্দিধারী পুলিশ সন্ত্রাসীদের দেখে হুলস্থুল পড়ে গেল চারিদিকে। মাথা বাঁচাতে টেবিলের নীচে আশ্রয় নিলেন কেউ। কেউ আবার সেঁটে গেলেন দেওয়ালে। তবে তাতেও রেহাই মিলল না। কখনও মাথায়, তো কখনও আবার পিঠে এসে পড়ল লাঠির বাড়ি। হাত তুলে মাথা বাঁচাতে গেলে সেই হাতেই এসে পড়ল এলোপাথাড়ি লাঠির ঘা।

লাইব্রেরিতে ঢুকে কার্যত একতরফা তাণ্ডব চালাতে দেখা গেল দিল্লি পুলিশকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া এবং প্রাক্তনীদের নিয়ে গঠিত জামিয়া কো-অর্ডিনেশন কমিটির তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় ৪৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিয়োটি প্রকাশ করা হয়েছে। লাইব্রেরির সিসিটিভি ফুটেজ ঘেঁটে সেটি বার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাতে শুধু মারধরই নয়, লাঠি উঁচিয়ে পড়ুয়াদের শাসানিও দিতে দেখা গিয়েছে পুলিশকে।

১৩ হা জন লোক এই সম্পর্কে কথা বলছেন

 

জামিয়া কো-অর্ডিনেশন কমিটির তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ‘‘এই সিসিটিভি ফুটেজ পড়ুয়াদের উপর পুলিশি নৃশংসতার প্রমাণ। এতে প্রমাণিত হয়, কীভাবে রাষ্ট্রের পোষা সন্ত্রাসবাদীরা লাইব্রেরিতে ঢুকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া পড়ুয়াদের উপর নৃশংস অত্যাচার চালিয়েছে।’’ ভিডিয়োটি সামনে আসার পর নতুন করে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো একটি লাইব্রেরিতে বসে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে ঢুকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাতে শুরু করে পুলিশ। টুইটারে ভিডিওটি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের ‘জামিয়া কো-অর্ডিনেশন কমিটি’ নামের একটি সংগঠন।

গত ১৫ ডিসেম্বর জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল করেন সিএএ-র বিরোধিতা করে। এরপরই সেখানে হাজির হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিক্ষার্থীদের উপরে চড়াও হয় পুলিশ। পুলিশ লাঠিচার্জ করার পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে আন্দোলন প্রতিহত করতে চেষ্টা করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকে প্রায় ১০০ জনকে আটক করে।

সূত্র:আনন্দ বাজার/ এনডিটিভি

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন