সাবেক সোভিয়েত বাহিনীর লাঞ্ছনাকর পরাজয় থেকে শিক্ষা নিতে হবে মার্কিনীদের: তালেবান

0
451

1989 সালের 15 ফেব্রুয়ারি, দিনটি ছিল তৎকালীন সুপারপাওয়ার দাবিদার সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া) কুফ্ফার সৈন্যদের আফগানিস্তান থেকে “আমু দরিয়া” হয়ে পলায়নের সর্বশেষ দিন, আফগান মুজাহিদদের সাথে দীর্ঘ যুদ্ধের পর এদিন লাঞ্চনা ও অপমানের গ্লানি নিয়েই পরাজিত হয়ে আফগান ছাড়ে তৎকালীন এই সুপারপাওয়ার।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পরাজয়ের বিষয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ইসলামী ইমারাত তাদের এক বিবৃতিতে ক্রুসেডার আমেরিকানদের লক্ষ্য করে বলেছেন,
যদি বর্তমানে ন্যাটো এবং এর মিত্রদের সামান্যতম জ্ঞান বুদ্ধি থাকে তবে তাদের সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং তাদের গোলামদের থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।

আর যদি আমেরিকা তার আক্রমণাত্মক সামরিক শক্তি এবং তাদের গোলামদের উপর আশাবাদী হয়ে এখানে দখলদারিত্ব বজায় রাখার স্বপ্ন দেখতে থাকে, তবে নিঃসন্দেহে আমেরিকাও সেই একই পরিণতি ভোগ করতে হবে, যা ইতিপূর্বে ভোগ করেছিল কমিউনিজমের অনুসারী সাবেক সোভিয়েত ইউনয়ন। প্রতিবছর তারা ১৫ ফেব্রুয়ারিকে পরাজয়ের বছর ধরে স্মরণ করে।

এমনই এক সময় “ইমারতে ইসলামিয়া” ক্রুসেডার আমেরিকাকে লক্ষ্য করে এই বার্তাটি দিল যখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো খবর দিচ্ছে যে, “আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমেরিকার সঙ্গে তালেবানের একটি সমঝোতা চুক্তি সই হতে যাচ্ছে”

মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস গত সপ্তাহে তালেবানের সঙ্গে আমেরিকার চলমান আলোচনার কথা উল্লেখ করে জানিয়েছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শর্তসাপেক্ষে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারে সম্মতি দিয়েছে। শর্তটি হচ্ছে, দু’পক্ষের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের এক সপ্তাহ আগে থেকে তালেবানকে যুদ্ধ বন্ধ রাখতে হবে। এক সপ্তাহ আফগানিস্তানের কোথাও তালেবান অভিযান না চালালে বোঝা যাবে তারা চুক্তির শর্ত মেনে চলবে।

অন্যদিকে তালেবান মুজাহিদিন ইতিপূর্বে তাদের বক্তব্য স্পষ্টরূপে জানিয়ে দিয়ে বলেছিল, সমঝোতা চুক্তি সম্পূর্ণ হওয়া এবং কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত যুদ্ধের ময়দানে কোন প্রভাব পড়বেনা, যতক্ষণ না আফগানিস্তান থেকে দখলদার সৈন্যরা পরিপূর্ণভাবে চলে যায়। যদি আমেরিকা সত্যিকার অর্থেই শান্তি চায়, তাহলে তাকে আগে সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে।

বর্তমানে এটা স্পষ্ট হয়েগেছে যে কারা শান্তি চায় আর কারা বিবাদ চায়। কারণ চলমান এই আলোচনা ক্রুসেডার মার্কিন প্রশাসনের আচরণে বেশ কয়েকবার ভেঙ্গেও গেছে। ভারসাম্যহীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই ঘোষণা দিয়ে আলোচনা বন্ধ করে দিয়েছিল একবার।

 

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন