বাবরি মসজিদ এলাকার কবরস্থানের উপর রাম মন্দির নির্মাণে মুসলিমদের আপত্তি!

0
305

ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় যেখানে রাম মন্দির নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে তার একাংশে কবরস্থান থাকায় সেখানে মন্দির নির্মাণ না করার আবেদন জানিয়েছেন মুসলমানরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি সংসদে মন্দির নির্মাণের জন্য রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের ঘোষণা করেছে। সেই ট্রাস্টের উদ্দেশ্যে মুসলিমরা চিঠি দিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। (খবর  পার্সটুটের)

অযোধ্যার স্থানীয় ৯টি সংখ্যালঘু মুসলিম পরিবারের দাবি, ১৮৫৫ সালে বাবরি মসজিদ এলাকায় ছিল মুসলিমদের কবরস্থান। সেজন্য কবরস্থানের ওপরে কী রাম মন্দির গড়ে তোলা উচিত? এই প্রশ্নই করা হয়েছে ওই চিঠিতে। এছাড়া ওই এলাকায় ৪/৫ একর জমি ছিল মুসলিম কবরস্থান। আর সেখানে যাতে রাম মন্দির না তৈরি হয়, সেজন্য আবেদন করা হয়েছে চিঠিতে।

অযোধ্যার বাসিন্দা হাজী মুহাম্মদসহ নয়জন অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের জন্য গঠিত কমিটিতে চিঠি দিয়ে বলেছেন, ৬৭ একর জমি কেন্দ্রীয় সরকার অযোধ্যা আইনের অধীনে নিয়েছিল এবং এবার তা ট্রাস্টকে দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৪/৫ একর জমিতে কবরস্থানও রয়েছে। ট্রাস্ট সদস্যদের কাছে তাঁদের অনুরোধ, এটা আপনারা বিবেচনা করুন যে কবরস্থানে কী মন্দির নির্মাণ করা যায়? সেখানে বর্তমানে কবরস্থান দৃশ্যমান না হলেও এটি একটি কবরস্থান। ১৯৪৯ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত জায়গাটি অন্যভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

স্থানীয়দের পক্ষে আইনজীবী এম আর শামশাদের দাবি, ১৮৫৫ সালের দাঙ্গায় ওই এলাকায় ৭৫ জন মুসলিমকে হত্যা হয়। আর ওই ৪/৫ একর জমিতে সেই মুসলিমদের দাফন সম্পন্ন হয়েছিল। বাবরি মসজিদের চারপাশে যে কবরস্থান রয়েছে, তার সপক্ষে একাধিক যুক্তি দিয়েছেন আইনজীবী এম আর শামশাদ।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যার ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ‘করসেবক’ নামধারী হিন্দুত্ববাদী একদল  সন্ত্রাসী জনতা। তাদের দাবি, এটি আসলে ভগবান রামের জন্মস্থান। এ নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে মামলা চলার পরে কিছুদিন আগে সুপ্রিম কোর্ট ওই স্থানে রাম মন্দির নির্মাণের পক্ষে রায় দেয়। এজন্য সরকারকে ট্রাস্ট গঠনের নির্দেশ দেয় আদালত।

 

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন