কাশ্মিরীদের নতুন আতঙ্ক: সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা

0
377
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের উপর ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করে কাশ্মিরের যে সব ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাস দমন’ আইনের মামলা করেছে ভারত শাসিত কাশ্মিরের কর্তৃপক্ষ।
মামলা দায়েরের পর কাশ্মিরের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ৫ আগস্ট যখন মুসলিম প্রধান এ অঞ্চলের স্বায়ত্বশাসন ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়া হয়, তখন থেকেই এ অঞ্চলের উপর যোগাযোগ নিষেধাজ্ঞা চলে আসছে।
আনল’ফুল অ্যাকটিভিটিজ প্রিভেনশান অ্যাক্টের (ইউএপিএ) অধীনে নাম না জানা সোশ্যাল মিডিয়া ইউজারদের বিরুদ্ধে ফার্স্ট ইনফরমেশান রিপোর্ট বা এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ইউএপিএ আইনের অধীনে কেউ আটক হলে জামিন ছাড়া তাকে বহু মাস আটক রাখা হতে পারে।
কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করার ছয় মাস পর ১৪ জানুয়ারি নিম্নগতির ২জি ইন্টারনেট চালু করেছে সেখানে। তবে ইন্টারনেট চালু করা হলেও সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রয়েছে। কাশ্মিরীরা ভিপিএন ব্যবহার করে বন্ধ সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলো ব্যবহার করছে।
অনেকে টুইটার ও ফেসবুকে আপডেট পোস্ট দিতে শুরু করেছে। তবে এফআইআর দায়েরের পরে এখন তাদের অনেকের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
২৫ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সেহবা মির বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়াতে আমি কোন রাজনৈতিক পোস্ট দেয়নি কিন্তু আমি আতঙ্কিত হয়ে গেছি। আমি আমার ভিপিএন মুছে দিয়েছি এবং সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট ডি-অ্যাক্টিভেট করে দিয়েছি। এই মামলার অর্থ হলো তারা এখন যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারে”।
কিছু ইউজার অভিযোগ করেছেন যে, সিকিউরিটি চেকপোস্টগুলোতে তাদের মোবাইল চেক করে প্রক্সি সার্ভার ফোন থেকে মুছে দেয়া হয়েছে।
বিশোর্ধ ব্যবস্থাপনার শিক্ষার্থী তার নাম না প্রকাশের শর্তে আল জাজিরাকে বলেছেন, “দুই দিন আগে শ্রীনগরের একটি হাসপাতালের বাইরে আমাকে থামানো হয়েছিল। সেনারা আমাদের ফোন চেক করে ভিপিএন ডিলিট করে দেয়”।
এক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেছেন যে, তারা “বিভিন্ন একাউন্ট ও স্ক্রিনশট যাচাই করে দেখছেন এবং এরপর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে”।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন