দিল্লিতে হিন্দুত্ববাদীদের চলমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭, আহত শতাধিক

0
563

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের উপর হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। সে ভয়াবহ সংঘর্ষে ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গুরুতর আহত অবস্থায় দিল্লির জিটিবি হাসপাতাল’সহ বিভিন্ন হাসপাতালে দেড়শতাধিক চিকিৎসাধীন আছেন। আর সংঘর্ষস্থলে হিন্দুত্ববাদি সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়ে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে।  খবর-এনডিটিভি, আনন্দ বাজার

বিতর্কিত সিএএ আইনের বিরুদ্ধে দিল্লির শাহিনবাগে অবস্থান নিয়ে টানা দুই মাস ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন নারীরা। ওই অবস্থানের কারণে বন্ধ হওয়া সড়ক কর্তৃপক্ষ খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার পর গত শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে জাফরাবাদ মেট্রোস্টেশনে একই ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়। এর জবাবে পরদিন (রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় প্রায় এক কিলোমিটার দূরের মৌজপুর চকে সিএএ সমর্থকদের জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়ে টুইট করেন দিল্লির বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র। ওই দিন সাড়ে ৪টা নাগাদ উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও পরস্পরের দিকে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি সহিংসতার জন্য নাম না করে বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রকে অভিযুক্ত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে তিনি লেখেন, ‘সাবেক বিধায়ক এবং এক বিজেপি নেতার উস্কানিমূলক মন্তব্যই এদিনের দাঙ্গার জন্য দায়ী। এখন তো পুলিশের যুক্ত থাকার প্রমাণও স্পষ্ট। সাবেক ওই  বিধায়ককে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। সহিংসতা রুখতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে, নইলে এটা আরও ছড়িয়ে পড়বে।’

গত (শনিবার) রাত থেকে ‘সিএএ’-এর প্রতিবাদে দিল্লির শাহীন বাগের আদলে বিক্ষোভ চলছে দিল্লির জাফরাবাদে। কয়েকশ’ মুসলিম নারী জড়ো হন সেখানে। তা নিয়ে রোববার পুলিশকে হুমকি দিয়েছিলেন দিল্লির বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র। তিন দিনের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের না হঠালে তাঁরাও পাল্টা রাস্তায় নামবেন বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল সোমবার দুপুরে দিল্লির গোকুলপুরি, ভজনপুরা এলাকায় বিক্ষোভ হয়। এসময় ‘সিএএ’-এর সমর্থনে একদল মানুষ সেখানে এসে হাজির হয় বলে অভিযোগ।

গণমাধ্যমের বিভিন্ন  সূত্রে প্রকাশ, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে দিতে ‘সিএএ বিরোধী’ মিছিলের সামনে হাজির হয় ওই দলটি। এতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সড়কের উপরেই দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, ‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, এমপি, শাসক দলের নেতৃত্বের ঘৃণ্য বক্তব্য এবং ‘গোলি মারো’ বলে হিংসায় প্ররোচনার কারণেই দিল্লিতে আইনশৃঙ্খলার এই পরিণতি আমরা দেখলাম।’

এই ঘটনার দায় সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর বর্তায়, কারণ সরকার মানুষের ক্ষোভ নিরসনে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।’

গতকাল সোমবার দিনভর সহিংসতার পরে রাতে দিল্লির উত্তর-পূর্ব জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের অবস্থা ছিল ভীতিকর। এসময় তাণ্ডবকারীরা দোকানের শাটার ভেঙে জিনিসপত্র বের করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। রাতে এ ধরণের বহু ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে।  হামলাকারীরা গণমাধ্যম তো দূরের কথা, এমনকি সাধারণ ব্যক্তিকেও মোবাইল থেকে কোনও কিছু রেকর্ড করতে দেয়নি। শুধু তাই নয়, তারা আশেপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জাফরাবাদ, মৌজপুর, চাঁদবাগ, ভজনপুরা, করওয়াল নগর, জোহরপুর প্রভৃতি স্থানে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটেছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা বেশকিছু যানবাহন লাঠিডাণ্ডা নিয়ে ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

গণমাধ্যমের একটি সূত্র বলছে, রোববার বিকেল থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সহিংসতার জেরে জাফরাবাদ অঞ্চলের বহু মুসলিম পরিবার ঘরে তালা ঝুলিয়ে মহল্লা ছেড়েছেন। জাফরাবাদ, মৌজপুর, বাবরপুর, সিলমপুরের অনেকে বাড়ির সামনে ‘গেরুয়া পতাকা’ ঝুলিয়ে দিয়েছেন, যাতে হামলা না হয়।

আজ (মঙ্গলবার) এনসিপি নেতা নবাব মালিক বলেছেন, ২/৩ মাস ধরে সিএএ, এনআরসি ইস্যুতে বিক্ষোভ হচ্ছে, সহিংসতা হচ্ছে, এজন্য সম্পূর্ণ দায়বদ্ধতা কেন্দ্রীয় সরকারের। সরকার পক্ষের লোকেরা উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, গুলি মারার কথা বলছেন। কপিল মিশ্র (বিজেপি নেতা) বলেন, ট্রাম্পের ছাড়ার পরে এ নিয়ে নিষ্পত্তি হবে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন