কৃষি বিভাগের উদাসীনতায় সার কিনে ঠকছেন কৃষকেরা

0
100

কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে প্রতি বস্তায় ৩ থেকে ৪ কেজি ইউরিয়া সার কম থাকার অভিযোগ উঠেছে। গ্রামীণ এসব বাজারে সরকারি মূল্যের চেয়েও বেশি দামে ইউরিয়া সার বিক্রির খবর পাওয়া গেছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা ডিলারদের কাছে বস্তা কিনে বিক্রি করি। ওজনে কম থাকলেও আমাদের কিছু করার নেই। ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা প্রতারিত হওয়ায় তাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে উফসী ১৪ হাজার ৭২৭ হেক্টর, হাইব্রিড ৫ হাজার ৪৭৬ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ১০৮ হেক্টরসহ ২০ হাজার ৩১১ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এসব জমিতে ফসল উৎপাদনে সারের চাহিদা মেটাতে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৬ হাজার ১৭৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের প্রয়োজন। এসব সারের চাহিদা মেটাতে উপজেলার ১৪ জন বিসিআইসির ডিলারের মাধ্যমে গত জানুয়ারি মাসে ৯৮১ মেট্রিক টন ও ফেব্রুয়ারি মাসে ১ হাজার ৫০১ টন ইউরিয়া সার উত্তোলন করা হয়েছে।

কিন্তু এসব ডিলার ইউনিয়ন পর্যায়ে সার বিক্রির বিধিবিধান থাকলেও তা না করে উপজেলা সদরেই বিক্রি করে থাকেন। ফলে এ পরিস্থিতিতে গ্রামীণ হাট-বাজারগুলোতে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে কৃষকদের। কৃষি বিভাগের উদাসীনতার কারণে প্রতিবছর সার কিনে প্রতারিত হতে হচ্ছে কৃষকদের।

তবে কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং না থাকায় ইউরিয়া সার কিনতে গিয়ে প্রতিনিয়তই প্রতারিত হচ্ছেন কৃষকরা। কৃষকদের দাবি, কোথায় সমস্যা তা দেখার দায়িত্ব সরকারের। আমরা ন্যায্য মূল্য দিয়ে সার কিনে কেন প্রতারিত হবো।

কৃষক মজিবর রহমান, বাদশা মিয়া, আব্দুস ছামাদসহ অনেকে জানান, ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়া সার কিনে বাড়িতে আনলে দেখা যায় বস্তায় ৩ থেকে ৪ কেজি সার নেই।

কালের কন্ঠের প্রতিবেদনে জানা যায়, উপজেলার বাকরেরহাট, চৌমহনী বাজার, অনন্তপুর, বজরা, তবকপুরসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরে বস্তায় ইউরিয়া সার কম দেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে।

খুচরা সার ব্যবসায়ী আতাউর রহমান জানান, প্রতি বস্তায় ৩ থেকে ৪ কেজি সার কম থাকে। বস্তা খুলে কেজি হিসেবে বিক্রি করি তাতে লাভ হয় না।

বিসিআইসির পরিবেশক আব্দুল মালেক বলেন, আমাকেও কয়েকজন ক্রেতা বস্তায় কম থাকার অভিযোগ দিয়েছেন। বাফার গুদাম থেকে আমাদের সার মেপে দেওয়া হয় না। ফলে সেখান থেকেই বস্তায় সার কম আসতে পারে।

উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বাফারের গুদামে বস্তা পরে থাকার কারণে কম হতে পারে স্বীকার করে বলেন, গতকাল রবিবার শহরের বিসিআইসির একজন ডিলারের দোকানে গিয়ে ৪০০ গ্রাম সার বস্তায় কম পাওয়া গেছে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন