হিন্দুত্ববাদী স্লোগান দিয়ে মসজিদে ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ, মিনারে গেরুয়া পতাকা!

0
389

ভারতের রাজধানী দিল্লির অশোক নগর এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি মসজিদে ভাংচুর ও আগুন লাগিয়ে দিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী মালাউন হিন্দু সন্ত্রাসীরা। ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের পর ইসলিম ও মুসলিম বিদ্ধেষী মালাউন হিন্দু সন্ত্রাসীরা ‘জয় শ্রী রাম’ ও ‘হিন্দুস্তান হিন্দুদের’ স্লোগান দিয়ে মহড়া দেয়। এসময় মসজিদের মিনারে উগ্র হিন্দুত্ববাদের পতাকার পাশাপশি ভারতের জাতিয়তাবাদের কুফরী পতাকাও উড়িয়ে দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী মালাউন হিন্দু সন্ত্রাসীরা তাদের উগ্রবাদী “হনুমান” যুক্ত পতাকা ও হাতে একটি ভারতীয় কুফরি পতাকা নিয়ে মসজিদের মিনারে আরোহন করে। এসময় মিনারের একাংশ ভাঙতে চেষ্টা করে উগ্র হিন্দু সন্ত্রাসীরা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল না হওয়ায় মিনারের মাইকগুলো ভাঙতে শুরু করে তারা।

এখানেই শেষ নয়, বরং মসজিদের ভবন সংশ্লিষ্ট ও আশেপাশের দোকানগুলোতে লুটপাটও চালায় উগ্র হিন্দু সন্ত্রাসীরা। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, লুটপাটকারীরা ওই এলাকার বাসিন্দা নন। এত বড় একটি ঘটনাস্থলে দমকলবাহিনীর কর্মীরা অনেক দেরিতে আসলেও ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি কোন পুলিশ সদস্যকে।

স্থানীয়রা বলেছেন, পরে যখন ভারতের মালাউন পুলিশ সদস্যরা আসে, তখন তারা এর কোন বিচার করা ছাড়াই ওই এলাকা থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের সরিয়ে দিয়।

এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে সাংবাদিকদের বেধড়ক মারধরও করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীরা। তাদেরকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। এসময় মালাউদের হামলায় দুই সাংবাদিক গুলিবিদ্ধও হয়েছেন। এমনকি সাংবাদিক মুসলমান কিনা তা নিশ্চিত করতে প্যান্ট খুলে যাচাই করার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে এই মুশরিক হিন্দু সন্ত্রাসীরা।

উল্লেখ্য যে, গত রবিবার সন্ধ্যা থেকে দিল্লিতে (সিএএ) নিয়ে সহিংসতা বেড়েছে। বিশেষ করে তিনদিনের মধ্যে জাফরাবাদ ও চাঁদবাগ এলাকা থেকে সিএএবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দিতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতা মুশরিক “কপিল মিশরা” দিল্লি পুলিশকে আল্টিমেটাম দেওয়ার পর এই সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মঙ্গলবার পর্যন্ত সহিংসতায় ১৩ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। উত্তর-পূর্ব দিল্লির বেশ কিছু এলাকায় মুসলিমদের ওপর হামলায় মালাউন পুলিশ সদস্যরাও উগ্র হিন্দুদেরকে সহযোগিতা করেছে বলেও প্রমাণ রয়েছে। এসকল সংঘর্ষের দৃশ্য ধারণকারী সাংবাদিকদের ফোন ও ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলেছে মালাউন পুলিশ ও মুশরিক হিন্দুরা।

গুর তেজ বাহাদুর হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেন্ডেন্ট সুনিল কুমার আলজাজিরাকে বলেন, সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে আমি নিশ্চিত করেছি। এছাড়া আরো অনেক আহত আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অন্য একটি হাসপাতালের চিকিৎসক রাজেশ কার্লা বার্তা সংস্থা “এএফপি”কে বলেন, মঙ্গলবার আমাদের হাসপাতালে ৩১ জন ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতরা বেশিরভাগই গুলিবিদ্ধ। আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন।

সর্বশেষ তথ্যমতে গত দুই দিনে দিল্লিতে হিন্দুত্ববাদী মালাউন মুশরিক ও পুলিশ বাহিনীর সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ১৫০ জন আহত হয়েছেন।

 

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন