ঐতিহাসিক মুহুর্ত এবং পারস্পরিক দায়বদ্ধতা

0
359

আমাদের ঈমানদার জাতি এবং গর্বিত ভূমি তাদের ধারাবাহিকভাবে উদযাপিত ইতিহাসের গতি নির্ধারণকারী মুহুর্তগুলির মধ্য দিয়ে চলেছে।
আফগান জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী ইসলামি ইমারত আমেরিকার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বিদেশী সেনা প্রত্যাহারের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করার ব্যাপারে একটি বৈঠক করবে, যার ব্যাপারে বিগত দেড় বছর ধরে আলাপ-আলোচনা চলেছে।

এই জাতীয় ঘটনা বিভিন্ন জাতির ইতিহাসে বিরল ঘটনা, তাই আমাদের স্বদেশবাসীদের অবশ্যই পরিস্থিতির গভীরতা বুঝতে হবে এবং সে অনুযায়ী তা সামাল দিতে হবে।

আমাদের ঈমানদার জাতি অনেক বঞ্চনা,কষ্ট ও পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে এবং প্রায় দুই দশকের বিদেশী দখলদারদের উপস্থিতি ধারাবাহিক দুর্দশার অন্যতম বৃহৎ পরীক্ষা ছিল। কিন্তু সম্ভবত এই জাতির উপর সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালার করুণা এবং সাহায্য ছিল যা আফগান জাতিকে এই পরীক্ষার সময়ে অবিচলতা, ধৈর্য ও অধ্যবসায় দিয়েছিল, যাতে শেষ পর্যন্ত তাদের সংগ্রাম বিজয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায় – প্রত্যেকের কাছে যে প্রত্যাশা ছিল অকল্পনীয়।

এটি মাথায় রেখে আমাদের সমস্ত সহযোদ্ধা দেশবাসীর অবশ্যই উচিৎ ইতিহাসের এই পথ নির্ধারণকারী সন্ধিক্ষণে সর্বশক্তিমান আল্লাহ কে সর্বাগ্রে শুকরিয়া জানানো। তাদেরকে অবশ্যই ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য , ভালোবাসা এবং আন্তরিকতার শিকড়কে নিজেদের মধ্যে আরো শক্তিশালী করে তুলতে হবে। এমনকি আল্লাহর রজ্জু (দ্বীন) কে আরো দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধঁরে সমসাময়িক ধর্মদ্রোহী এবং বিভাজনমূলক মতাদর্শকে বাদ দিয়ে আল্লাহর রহমতে একটি উজ্জ্বল, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের দিকে সতর্ক ও বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বিদেশী শক্তি প্রত্যাহারের পরে আফগানিস্তানের সমস্ত সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব পুরোপুরি আফগানিস্তানের কাঁধে এসে পড়ে । সুতরাং আমাদের এই সংকটময় সময়ে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।আফগান জাতির সকলের আকাঙ্ক্ষা (ইসলামি সরকার) অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে এবং আমাদের দেশবাসীকে অবশ্যই কারো ব্যক্তিগত অভিলাষ এবং আকাঙ্ক্ষার জন্য কাউকে এই ঐতিহাসিক সুযোগটি নষ্ট করতে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না।

আমাদের সহযোদ্ধাগণ ও বিশ্ব দেখবে যে, আফগানিস্তানের ইসলামি ইমারত তথা ইসলামি রাষ্ট্র আমাদের জন্মভূমিকে মুক্ত করার লড়াইয়ে এবং বিদেশী দখলদারির অবসানের লক্ষ্যে আলোচনায় তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে এবং পরিশেষে এটি তার একটি স্বাধীন ও ইসলামি আফগানিস্তানের লক্ষ্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে বলে মনে হচ্ছে।
ইসলামি ইমারত ভবিষ্যতে তার ঈমানদার জাতির বিশুদ্ধ আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে এবং এমনকি আরো যুগান্তকারী ও সফল পদক্ষপ গ্রহণে সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।


(২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে তালিবানদের অফিসিয়াল “আল-ইমারাহ্” ওয়েবসাইট এ প্রকাশিত আর্টিকেলের অনুবাদ, অনুবাদক: ত্বহা আলী আদনান, প্রতিবেদক আল-ফিরদাউস নিউজ)

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন