দিল্লিতে চলমান গণহত্যার পিছনে মালাউন পুলিশের ভূমিকা!

0
509
লাঠি-পাথর হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে হিন্দু সন্ত্রাসীরা, পাশেই নীরব দর্শক পুলিশ। ছবি: পিটিআই।

মালাউন সন্ত্রাসীদের মুসলিম গণহত্যার শুরুটা হয়েছিল রবিবার বিকেলে। চার দিন পর বুধবার দিনের শেষেও স্বাভাবিক হয়নি রাজধানী দিল্লির পরিস্থিতি।

মাথামোটা কিছু মানুষের প্রশ্ন জাগতে পারে, দিল্লিতে যখন গেরুয়া সন্ত্রাসীরা মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট লুটপাট করছিল, মসজিদ, মাদরাসায় আগুন দিচ্ছিল, প্রশাসন তখন কোথায় ছিল? আমরা সেই প্রশ্নেরই জবাব খোঁজার চেষ্টা করেছি। খতিয়ে দেখেছি ঘটনাপঞ্জি। আপনারাও দেখে নিন গত দু’মাসে দিল্লির ঘটনাবলী ঠিক কোন পথে গিয়েছে। আর সেখানে কী ভূমিকা ছিল মালাউন পুলিশের—

• ২৭ জানুয়ারি, ২০২০: দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিতর্কিত মন্তব্য কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুরের। শাহিন বাগের আন্দোলনকারীদের দেশদ্রোহী হিসাবে দাগিয়ে ‘দেশ কে গদ্দারো কো, গোলি মারো সালো কো’ স্লোগান তোলেন তিনি।

বিকাশপুরীর জনসভায় মুসলিমবিরোধী মন্তব্য করেন বিজেপি সাংসদ প্রবেশ বর্মা। শাহিন বাগের আন্দোলনকারীরা এ বার ঘরে ঢুকে মা-বোনেদের ধর্ষণ করবে বলে সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেয়।

এছাড়াও বিজেপির অন্যান্য সন্ত্রাসীরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে নানা উসকানীমূলক বক্তব্য দিতে থাকে। কিন্তু পুলিশের তরফে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।

• ৩০ জানুয়ারি, ২০২০: দিল্লির জামিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে সিএএ বিরোধী আন্দোলনরত পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় এক হিন্দু সন্ত্রাসী। তাতে গুলিবিদ্ধ হন জামিয়ার এক কাশ্মীরি পড়ুয়া। ঘটনার সময় আততায়ীর পিছনেই হাতে হাত রেখে দাঁড়িয়েছিল মালাউন পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার বদলে গুলি চালাতে চালাতে পুলিশের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল সে।

সিএএ বিরোধী আন্দোলনরত পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে গুলি করছে, পিছনে হাত গুটিয়ে পুলিশ। ছবি: পিটিআই।

• ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০: শাহিন বাগের ধর্নায় ঢুকে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে দিতে  গুলি ছোড়ে আরেক হিন্দু সন্ত্রাসী কপিল গুর্জর নামের এক যুবক। তাঁর বিরুদ্ধেও তেমন কোন ব্যবস্থা নেয় নি মালাউন পুলিশ।

• ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০: ওই দিন বিকেলে মৌজপুর পৌঁছন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র। উত্তর-পূর্ব দিল্লির ডিসিপি বেদপ্রকাশ সূর্যকে পাশে রেখে তিনি হুমকি দেন, তিন দিনের মধ্যে জাফরাবাদ এবং চাঁদ বাগ থেকে বিক্ষোভ না উঠলে কারও কথা শুনবেন না, রাস্তা খালি করতে তাঁরাই রাস্তায় নামবেন।

ডিসিপিকে পাশে নিয়ে হুমকি কপিল মিশ্রের। ছবি: পিটিআই।

নতুন দিল্লি থেকে আইটিও হয়ে পূর্ব দিল্লিতে ঢুকতেই লক্ষ্মীনগর। এলাকার নতুন বিজেপি বিধায়ক অভয় বর্মার নেতৃত্বে সন্ধ্যায় মিছিল বেরিয়েছিল। স্লোগান উঠেছিল— ‘দেশকে হত্যারোঁ কো, গোলি মারো শালো কো’, ‘যো হিন্দু হিত কি বাত করেগা, ওহি দেশ মে রাজ করেগা’।

এর পরেই পরিস্থিতি আরও তেতে ওঠে। মৌজপুরে ধীরে ধীরে ভিড় জমতে থাকে সিএএ সমর্থক সন্ত্রাসীরা। জাফরাবাদ থেকে মৌজপুর বেরনোর দেড় কিলোমিটার রাস্তা বন্ধ করে দেয় তাঁরা। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে জাতীয়তাবাদী স্লোগান তুলতে শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে কবীর নগর, কর্দমপুরীতে মুসলিমদের ইটবৃষ্টি শুরু হয়। তার কিছু ক্ষণের মধ্যে মৌজপুর থেকে ইট ছোড়া শুরু হয় জাফরাবাদের দিকে।  সব দেখেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি  মালাউন পুলিশকে।

পুলিশের সামনেই পাথর জড়ো করছে এক দল বিক্ষোভকারী। ছবি: ভিডিয়ো গ্র্যাব।

• ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০: এ দিন সকাল থেকেই তেতে ওঠে মৌজপুর। ইটবৃষ্টি অব্যাহত, সেই সঙ্গে গুলিও চলতে শুরু করে। শুধু মৌজপুরই নয়, ভজনপুরা, চাঁদ বাগ, করাবল নগর, মুস্তফাবাদ এবং গোকুলপুরীতেও দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পর পর বেশ কয়েকটি দোকান জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। লুঠপাটও চলে দেদার। বেশ কিছু বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুন লাগানো হয় একটি পেট্রল পাম্পে। গোকুলপুরীতে একটি টায়ার কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে ধারে কাছে পুলিশকে দেখা যায়নি।

পায়ে গুলি লেগে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে মৃত্যু হয় মহম্মদ ফুরকান নামের এক মুসলিমের। ওই দিন ভজনপুরায় সব মিলিয়ে ৫০ জন জখম হন। মুসলিমদের দোকানে দোকানে লুঠপাট চালানো হয়, পাথর ছোড়া হয় একাধিক বাড়িতে। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কে বাড়ি ছাড়তে শুরু করেন অনেকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োয় পুলিশের উপস্থিতিতে পাথর জড়ো করতেও দেখা যায় এক দল হিন্দু সন্ত্রাসীদের।

• ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০: সকাল থেকে বিক্ষোভের আগুনে তেতে ওঠে খাজুরি খাস, যমুনা বিহার এবং ব্রিজপুর এলাকা। দমকলের গাড়ি লক্ষ্য করেও পাথর ছোড়া হয়, তাতে ৩ জন দমকলকর্মী জখম হন। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত মৃত্যু সংখ্যা গিয়ে ঠেকে ১৩-য়। আহত হন কমপক্ষে ১৫০ জন।

পুলিশের সামনেই চলছে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ।

 

 

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন