
মার্কিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন কাবুল বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার (২৬ আগষ্ট) আত্মঘাতী হামলা চালায় সন্ত্রাসী আইএস। হামলায় এখন পর্যন্ত ১৮৮ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। আহত হয় ২ শতাধিকেরও বেশি মানুষ।
এত সংখ্যক মানুষ নিহত হওয়ার পিছনে কারণ কি? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলেছিল বিবিসির এক সাংবাদিক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বিবিসির প্রতিবেদককে জানায়, সন্ত্রাসী আইএসের আত্মঘাতী হামলার পর মার্কিন বাহিনী আতংকিত হয়ে নির্বিচারে গুলি নিক্ষেপ করতে থাকে। যার ফলাফল এতো বেশি মানুষ নিহত হয়।
ব্রিটিশ নাগরিক নিয়াজি পেশায় একজন গাড়ি চালক। তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ নিহত হয় এ ঘটনায়। নিয়াজির ভাই আব্দুল হামিদ বিবিসিকে জানায়, আইএসের হামলার পর মার্কিন বাহিনীর গুলিতেই বেশিরভাগ মানুষ নিহত হয়।
সন্ত্রাসী মার্কিন বাহিনীর গুলিতে নিহতের ঘটনা আড়াল করতে হামলার পর পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের জেনারেল কেনেথ ম্যাকেনজি বলেছিল, দুটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে বিমানবন্দরের ফটক ‘আবে গেটের’ সামনে, অন্য হামলাটি হয়েছে অদূরেই ব্যারন হোটেলের পাশে।
এর পর পুনরায় মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানায়, কাবুলে দুটি নয়, একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। সেটি হামিদ কারজাই বিমানবন্দরের ফটকের পাশে ঘটে। ব্যারন হোটেলের কাছে কোনো বিস্ফোরণ ঘটেনি। তবে আগে মনে করা হয়েছিল যে সেখানে দুজন ওই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
এদিকে, গতকাল (২৯ আগস্ট) কাবুলে একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রয়টার্স রিপোর্ট করেছে, কাবুল বিমানবন্দরের কাছাকাছি বিস্ফোরণের শব্দ শুনে মনে হচ্ছে এটি একটি রকেট হামলা ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত টেলিভিশন ফুটেজ এবং ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি আবাসিক ভবনের ওপরের আকাশে কালো ধোঁয়া উঠছে।
রয়টার্সের বিদেশি সংবাদদাতা ইদ্রিস আলী বলেন, দুই মার্কিন কর্মকর্তা তাকে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কাবুলে বিমান হামলা চালিয়েছে। তাদেরই ছোঁড়া একটি রকেট বিমানবন্দরের কাছাকাছি বিস্ফোরিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, রকেট হামলার ফলে একাধিক শিশু নিহত হয়েছে।
অন্যদিকে সন্ত্রাসী মার্কিন বাহিনীর হয়ে কাজ করা আফগান দালালদের সবাইকে নিতে চাচ্ছেনা আমেরিকা। আমেরিকায় যেতে আগ্রহীরা ভীড় করছে বিমানবন্দরে। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে হামলার পর বিমানবন্দরে ভীড় কমেছে। এছাড়াও নতুন করে গতকালের মার্কিন বাহিনীর রকেট হামলা। সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফগান দোভাষীদের না নিতেই আমেরিকার এসব ছলচাতুরি।
উল্লেখ্য যে, এর আগেও আফগান দোভাষী দালালদের ভীড় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে গুলি করে কয়েকজনকে হত্যা করেছে বিশ্ব সন্ত্রাসী মার্কিন সেনারা। আর বাইডেন কয়েকদিন আগে থেকেই এ হামলার কথা বলছিল।
সূত্র : ডোম (ডকুমেন্টস অপরেশন এগেইন্সট মুসলিম)।
আপনার এখান থেকে খবর copy করে নিয়ে আমরা সোসাল মিডিয়াতে প্রচার করলে কোন অসবিধা আছে।
এবং আপনাদের এখান থেকে কপি করায় আপনাদের courtesy দিতে হবে, না দেওয়া লাগবে না।
প্রিয় ভাই, আমরা পোস্ট করার সময় ভেবে চিন্তে করবো। অবশ্য আমি আইসিসের পক্ষাবলম্বন করছি না।