ইয়েমেন থেকে গাজার় জনগণের জন্য আল-কায়েদার সাহায্য প্রেরণ

0
347

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠিন অর্থনৈতিক অবরোধের মধ্যেও গাজার জনগণের জন্য সহায়তা প্রেরণ করে যাচ্ছে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনীগুলো। বিশেষ করে বৈশ্বিক প্রতিরোধ বাহিনীটির আরব উপদ্বীপ শাখা, যা ইয়েমেনে আনসারুশ শরিয়াহ্ নামে অধিক পরিচিত।

ফিলিস্তিন ভিত্তিক আহরার বাইত আল-মাকদিস নামক একটি সংস্থা সম্প্রতি কয়েক মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সাংবাদিক ওয়াসিম নাসের তার টুইটার অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি শেয়ার করে নিশ্চিত করেন যে, ভিডিওটি গত ১৮ আগস্ট অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চল থেকে ধারণ করা হয়েছে। ভিডিওটি থেকে এটি স্পষ্ট যে, আল-কায়েদা আরব উপদ্বীপ শাখা (AQAP) গাজায় জায়োনিস্ট আগ্রাসনের শিকার অভাবী ফিলিস্তিনিদের কাছে সফলভাবে সাহায্য পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। আল-কায়েদার অন্যান্য শাখাগুলিও, যারা দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি স্বার্থের পক্ষে কাজ করে আসছে, তারাও গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সাধ্যমতো সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।

ফিলিস্তিন থেকে ধারণকৃত ভিডিওটিতে আল-কায়েদা ও এর প্রতিষ্ঠাতা শাইখ ওসামা বিন লাদেন (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে, আবু জাইন আল মাকদিসি নামক একজন ফিলিস্তিনি জানান, “আজ সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, আমরা গাজা শহর এবং এর উত্তর অংশে অবস্থান করছি। আমরা ধৈর্যশীল, অবিচল মুজাহিদদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই, যাদের প্রতি আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তারা এই উম্মাহর সমর্থক। আমরা “আহরার বাইতুল-মাকদিস” আমাদের ইয়েমেনের আনসারুশ শরিয়াহ্ ও সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা আল-কায়েদার মুজাহিদদের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমরা আপনাকে বলছি যে, আমাদের জনগণের জন্য আপনাদের পাঠানো অর্থ এবং দান আমাদের কাছে পৌঁছেছে, গাজায় আপনাদের এই প্রচেষ্টার জন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের দানের অর্থ আমরা দরিদ্রদের খাওয়ানোর জন্য ব্যবহার করছি।

ভিডিওতে আরও উল্লেখ করা হয়, আপনাদের এই সাহায্যগুলো এমন এক সময়ে আসছে, যখন গাজা উপত্যকা কঠোর অবরোধ ও দুর্ভিক্ষের মধ্যে রয়েছে। মার্কিন-সমর্থিত ইহুদিবাদী দখলদার বাহিনী টেলিভিশন ক্যামেরা এবং বিশ্বের চোখের সামনেই গাজার শিশু এবং দুর্বলদের হত্যা করছে। জায়োনিস্টদের আগ্রাসনে এখানে প্রতিদিন মানুষ শহিদ হচ্ছে, দুর্ভিক্ষে শিশুরা মারা যাচ্ছে, কিন্তু তাদের জীবন বাঁচানোর জন্য উপযুক্ত কোনো পদক্ষেপ বা উদ্ধার প্রচেষ্টা নেই।

এই দৃশ্যেগুলো বর্ণনার সময়, ফিলিস্তিনিরা ওসামা বিন লাদেন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিরোধ বাহিনীর নাম উল্লেখ করে মুসলিম বিশ্বের কাছে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন যে, আল-কায়েদা এখনও তাঁর লক্ষ্যে অবিচল এবং ফিলিস্তিনকে সমর্থন করার জন্য কাজ করছে। ঠিক যেমনি এর প্রতিষ্ঠাতা শাইখ ওসামা বিন লাদেন (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার জন্য জিহাদ শুরু করেছিলেন। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রুসেডার জোটও আল-কায়েদার মুখোমুখি হওয়ার লক্ষ্যে একটি ধর্মযুদ্ধ (ক্রুসেড) শুরু করেছিল।

আবু জাইন আল মাকদিসি তার বক্তব্য শেষ করেন, আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা শাইখ ওসামা বিন লাদেন (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এর প্রশংসা করে, যিনি প্রায়শই ইসরায়েল ও পশ্চিমাদের মুখোশ উন্মোচন করে আসছিলেন এবং বিশ্বব্যাপী ফিলিস্তিনিদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেছিলেন। সেই সাথে ফিলিস্তিনিদের এই দুর্দশার থেকে রক্ষার জন্য মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব উপস্থাপনের পাশাপাশি আল্লাহর পথে জিহাদের আহ্বান করে গেছেন।


তথ্যসূত্র:
– https://tinyurl.com/du2z4ccf

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধনাসের হাসপাতালে বর্বর ইসরায়েলি হামলা, সাংবাদিকসহ শহীদ ১৯
পরবর্তী নিবন্ধআফগানিস্তানে নাসাজি বাঁধ পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প সম্পন্ন, বিদ্যুৎ সেবায় হাজার হাজার বাসিন্দা উপকৃত