ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে ১০ বছরে ৩৬ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ

0
15

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের মহেশপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ অংশে ৩৬ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। গত ১০ বছরে গুলিবর্ষণে এবং অপহরণের পর নির্যাতনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন এসব নিরীহ নাগরিক। একই সময়ে বিএসএফের হাতে মারধরে আহত হয়েছেন সীমান্ত এলাকা মহেশপুরে বসবাসকারী আরো শতাধিক মানুষ। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দৈনিক আমার দেশে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘতম সীমান্ত। এর মধ্যে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় রয়েছে ৭২ কিলোমিটার সীমান্ত। কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে এখানকার প্রায় ৬০ কিলোমিটার এলাকায়। এছাড়া উন্মুক্ত সীমান্ত রয়েছে প্রায় ১২ কিলোমিটার। বাংলাদেশ অংশের মহেশপুর উপজেলায় রয়েছে যাদবপুর, মান্দারবাড়ীয়া, শ্যামকুঁড়, নেপা, কাজীরবেড় ও স্বরূপপুর ইউনিয়ন। ভারতীয় অংশে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার হাসখালী ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলা।

অভিযোগ রয়েছে- মহেশপুরের বাঘাডাঙ্গা সীমান্তের ওপারে ভারতের বরণবাড়ীয়া, শীলবাড়ীয়া, গৌড়া, কাজীরবেড়ের বিপরীতে হাবাসপুর-সুন্দরপুর, মাইলবাড়ীয়া সীমান্তের ওপাশে পাখিউড়া, স্বরূপপুরের বিপরীতে নোনাগঞ্জ ও বেণীপুর, খোসালপুরের ওপারে রামনগর-কুমারী এবং শ্যামকুঁড় সীমান্তের বিপরীতে ভারতের ছুটিপুর, ফতেপুর ও ভজনঘাট বিএসএফ ক্যাম্পের সীমান্তরক্ষীদের নির্বিচার গুলিতে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

গত ১০ বছরে এসব এলাকায় বিএসএফ প্রায় ৩৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে ও পিটিয়ে হত্যা করে। মূলত ভারতীয় এ বাহিনীর কারণে ঝিনাইদহের মহেশপুরের পুরো সীমান্ত এলাকাটি এখন মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, সর্বশেষ গত ৩ নভেম্বর ভোরে উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তে গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন বাউলি গ্রামের কাসেম আলীর ছেলে আবদুর রহিম। ভারতের নদীয়া জেলার ধানতলী থানার হাবাসপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যদের গুলিতে রহিম নিহত হন।

এ ছাড়া সীমান্তে গত কয়েক বছরে নিহতদের মধ্যে বাঘাডাঙ্গা গ্রামের আবদুস সামাদের ছেলে আলম মিয়া, রমজান আলীর ছেলে ওয়াসিম আলী, পাঞ্জাব আলীর ছেলে আবদুল মান্নান, করিম মিস্ত্রির ছেলে আত্তাব আলী, নয়ন মণ্ডলের তিন ছেলে ফজলুর রহমান, আবু সালেহ ও লিপু হোসেন, সলেমানপুর গ্রামের দাউদ হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম হোসেন, নবীছদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান, খোসালপুর গ্রামের শহিদুল হোসেনের দুই ছেলে সোহেল ও রাশিদুল, মাটিলা গ্রামের মনোয়ার মাস্টারের ছেলে আশা মিয়া, মাটিলা গ্রামের হামেদ আলীর ছেলে হারুন মিয়া, আশাদুলের ছেলে জসিম, লেবুতলা গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে লান্টু মিয়া, মিয়ারাজ হোসেনের ছেলে আমিরুল ইসলাম, মনির উদ্দিনের ছেলে আন্টু মিয়া, জলুলী গ্রামের শাহাদাত হোসেনের ছেলে খয়জেল হোসেন, গোপালপুর গ্রামের হানেফ আলীর ছেলে ওবাইদুর রহমান, যাদবপুর গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে জাহিদুল ইসলাম, বাঁকোশপোতা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে হাসান আলী, বাঘাডাঙ্গা জিনজিরাপাড়ার আবদুল আলীর ছেলে খালেক মিয়া, কাজীরবেড় গ্রামের আকবর আলীর ছেলে আশাদুল ইসলাম এবং মাইলবাড়িয়া গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে শফিউদ্দিন উল্লেখযোগ্য।

নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারত অংশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা বাংলাদেশিদের সঙ্গে শত্রু মনোভাবাপন্ন আচরণ করে। কারণে-অকারণে দেখামাত্র গুলি করে। যে কারণে বাংলাদেশিরা সীমান্ত লাগোয়া নিজেদের জমি ঠিকমতো চাষ করতে এবং গরু-ছাগল চরাতে যেতে পারছেন না।

বিশেষ করে চব্বিশের আন্দোলনের পরে বিএসএফ এখন সীমান্তে মারমুখী আচরণ করছে। ভারতীয় এ বাহিনী ঠান্ডা মাথায় অব্যাহতভাবে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের পাখির মতো হত্যা করছে। বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের এসব হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করা সত্ত্বেও ভারত তা বন্ধ করছে না।


তথ্যসূত্র
– https://tinyurl.com/3sedhchw

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধআফগানিস্তানের বালখ প্রদেশে প্রত্যাবর্তিত শরণার্থীদের জন্য প্রায় ৩০০০ একর জমি বরাদ্দ
পরবর্তী নিবন্ধবিহারে এক মুসলিম শ্রমিককে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে মারধর, দেবতার নামে বলি দেবে বলে হত্যার হুমকি