পশ্চিমা তাগুতের দরবারে সিজদা: উম্মাহর বিরুদ্ধে আদর্শিক যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী

0
2

আল ফিরদাউস এর সম্পাদক মুহতারাম ইবরাহীম হাসান হাফিযাহুল্লাহ’র কলাম

আজ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর যে দৃশ্য আমরা প্রত্যক্ষ করছি, তা কোনো আকস্মিক বিচ্যুতি নয়; এটি বহুদিন ধরে পঁচে যাওয়া এক আত্মার স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে- তারা ইসলামের পতাকা বহন করে না, বহন করে পশ্চিমা তাগুতের গোলামির শিকল। আফগানিস্তানে ফেলে যাওয়া মার্কিন অস্ত্র উদ্ধারের অজুহাতে ওয়াশিংটনের দরবারে নতুন করে হাজির হওয়া মানে একটাই সত্য: তারা ইসলামী স্বাধীনতা চায় না, তারা চায় শুধু পশ্চিমা প্রভুদের দাসত্বের শেকল!

ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান দীর্ঘ বিশ বছরের জিহাদে পশ্চিমাদের সামরিক শক্তির দম্ভ, নিষেধাজ্ঞার জুলুম এবং তথাকথিত সভ্যতার মুখোশধারী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যে দৃঢ়তা দেখিয়েছে- তা মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে আত্মমর্যাদার এক জীবন্ত দলিল। আর ঠিক সেই কারণেই তাগুতের দাসেরা আজ অস্থির ও আতঙ্কিত। কারণ যে তাওহিদবাদী মুজাহিদিন মাথা নত করতে শেখেনি, তাঁদের আর শাসন করা যায় না; ভয় দেখিয়ে, প্রলোভন দেখিয়ে কিংবা ডলারের লোভ দেখিয়েও নয়।

পাকিস্তানে ক্ষমতায় টিকে থাকা পশ্চিমা প্রক্সি শাসকরা ভালো করেই জানে- এই আদর্শ যদি বিস্তৃত হয়, তবে তাদের ক্ষমতার ভিত্তিই ধসে পড়বে। তাই তারা আবারও পশ্চিমাদের ভাষায় কথা বলছে, তাদের বয়ান ধার করছে, তাদের শত্রুকে নিজের শত্রু বানাচ্ছে। তারা যখন “নিরাপত্তা” বলে চিৎকার করে, তখন আসলে শোনা যায় ক্ষমতা হারানোর আতঙ্ক। তারা যখন “সন্ত্রাস” শব্দটি উচ্চারণ করে, তখন প্রকৃতপক্ষে প্রকাশ পায় ইসলামী শরিয়াহ ও জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ’র প্রতি তাদের পুরোনো শত্রুতা।

এটি কেবল কূটনৈতিক অবস্থান নয়- এটি একটি সুস্পষ্ট আদর্শিক বিভাজন। একদিকে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করা মুসলিম জনগোষ্ঠী, অন্যদিকে পশ্চিমা আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে ব্যস্ত মুসলিম নামধারী শাসকশ্রেণি- যারা ঈমানের বদলে পশ্চিমা দাসত্বকে বেছে নিয়েছে, ইসলামী নীতির বদলে সেক্যুলারিজম কে প্রাধান্য দিয়েছে।

আল্লাহর কিতাব আমাদের স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে-
وَلَا تَرْكَنُوْۤا اِلَي الَّذِيْنَ ظَلَمُوْا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ ۙ وَمَا لَكُمْ مِّنْ دُوْنِ اللّٰهِ مِنْ اَوْلِيَآءَ ثُمَّ لَا تُنْصَرُوْنَ

“আর যারা যুলম করেছে তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না; অন্যথায় আগুন তোমাদেরকে স্পর্শ করবে এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোন অভিভাবক থাকবে না। অতঃপর তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।”
(সূরাহ- হুদ, আয়াত: ১১৩)

কিন্তু পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী শুধু ঝুঁকেই পড়েনি; তারা সেই আগুনের পাশেই ঘর বেঁধেছে, আর সেই আগুনেই আজ তারা উম্মাহকে পুড়তে দিচ্ছে।

তাদের সমস্যা আফগানিস্তান নয়।
তাদের সমস্যা ইসলামী শরিয়াহ- যে শরিয়াহ পশ্চিমা গোলামিকে ইতিহাসের ময়লার ভাগাড়ে নিক্ষেপ করে।
তাদের সমস্যা সেই আদর্শ- যা ডলারে কেনা যায় না, নিষেধাজ্ঞায় ভাঙা যায় না, চাপ দিয়ে দমন করা যায় না।

পাকিস্তানের শাসকদের এটি মনে রাখা উচিত- তাদের পশ্চিমা প্রভুরা কখনো বন্ধু নয়; তারা কেবল ব্যবহারকারী। আর যারা উম্মাহর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এই ব্যবহারে সম্মতি দেয়, ইতিহাস তাদের নাম সম্মানের পাতায় লেখে না; লেখে লজ্জা ও বিশ্বাসঘাতকতার অধ্যায়ে।

আজ যারা তাগুতের পাশে দাঁড়িয়ে ইসলামী শরিয়াহকে রুখে দিতে চায়, আগামীকাল তারাই হবে প্রথম পরিত্যক্ত ইনশাআল্লাহ।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধইমারাতে ইসলামিয়ার কাবুলে পুলিশের অভিযানে প্রতারক চক্রের ২ অপরাধী গ্রেপ্তার, প্রায় ৩০টি গাড়ি উদ্ধার