
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত আফগান শরণার্থীদের জীবনে গভীর অনিশ্চয়তা ও মানবিক সংকট ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে।
পাকিস্তানে অবস্থানরত আফগান শরণার্থীরা জানিয়েছেন, জোরপূর্বক বহিষ্কার, নির্বিচার গ্রেপ্তার এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হয়েছে। শরণার্থী অধিকারকর্মী আল্লাহ মীর মিয়াখিল বলেন, পাকিস্তানে আফগান শরণার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে, অপরাধীদের সঙ্গেও করা হয় না। তিনি জানান, আফগান শিশুদের জন্য পরিচালিত শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং এমনকি বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানে বসবাসরত আফগান শরণার্থী মালিক শিনওয়ারি জানান, শরণার্থী প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে এবং পাকিস্তান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—ভিসা ছাড়া কোনো আফগান নাগরিককে দেশটিতে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। এই পরিস্থিতিতে বহু পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
শরণার্থী অধিকারকর্মী নজর নাজারি বলেন, শীতকালীন কঠিন সময়ে শরণার্থীদের অবস্থা বিবেচনা না করে জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এদিকে, ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের উপ-মুখপাত্র হামিদুল্লাহ ফিতরত হাফিযাহুল্লাহ পাকিস্তানে আফগান শরণার্থীদের গ্রেপ্তার, নিপীড়ন ও নির্যাতনের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইনের আলোকে পাকিস্তানের উচিত আফগান শরণার্থীদের অধিকার রক্ষা করা এবং হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করা।
এর আগে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার এক যৌথ প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাঁচ মাসেরও কম সময়ে পাকিস্তানে এক লাখ ত্রিশ হাজারের বেশি আফগান শরণার্থীকে আটক করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান শরণার্থীদের বর্তমান অবস্থার ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
তথ্যসূত্র:
1. Pakistan Cuts Electricity, Water to Afghan Refugees in Camps
– https://tinyurl.com/3se45tnz


