
ইমারাতে ইসলামিয়ার পৌরসভা অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন প্রদেশে নির্মাণ অনুমোদন কেন্দ্র চালু করেছে। নগর পরিকল্পনার বাইরে গড়ে ওঠা মানহীন ও অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ রোধ এবং কারিগরি মান নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কর্মকর্তাদের মতে, নতুন এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নগর পরিকল্পনা, কারিগরি মান ও নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। পৌরসভা অধিদপ্তরের বাজেট বিভাগের প্রধান ফয়েজ মোহাম্মদ জানান, নাগরিক সেবা সহজ ও দ্রুত করার লক্ষ্যেই এই শাখা চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখন থেকে বাড়ির মালিকদের বিদ্যুৎ, অগ্নিনির্বাপণ ও পানি সেবার জন্য আলাদা আলাদা দপ্তরে ঘুরতে হবে না; সব ধরনের আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া একই কেন্দ্রে সম্পন্ন হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত সব আইনি কার্যক্রম সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যেই শেষ করা হবে।
ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রদেশে নির্মাণ অনুমোদন কেন্দ্র কার্যক্রম শুরু করেছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সব অঞ্চলে তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের প্রদেশগুলোতে এসব কেন্দ্র সরাসরি কেন্দ্রীয় পৌরসভা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হবে, আর তৃতীয় স্তরের প্রদেশগুলোতে এগুলো নগর উন্নয়ন ও আবাসন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে।
হেরাত প্রদেশের পৌরসভা অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন এই কেন্দ্র নগরের ভেতরে বিশেষ করে ঐতিহাসিক স্থাপনাসংলগ্ন এলাকায় মানহীন ও অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। হেরাত পৌরসভার মুখপাত্র নাসির আরমাল বলেন, পুরোনো শহর এলাকায় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত উচ্চতা সর্বোচ্চ সাত মিটার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর স্বকীয়তা রক্ষায় সহায়ক হবে।
এদিকে হেরাত অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের প্রতিনিধি বশির আহমদ ওয়াহিদইয়ার বলেন, ভবনের নকশা প্রণয়নের সময় অগ্নি নিরাপত্তা মান প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। আবাসিক ভবন, বহুতল স্থাপনা ও শিল্পকারখানা—সব ক্ষেত্রেই এসব মান যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্মাণ প্রকৌশলী আহমদ রিশাদ সাফি বলেন, বহু শহরের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও স্থাপত্য রয়েছে, যা কোনোভাবেই হারিয়ে যাওয়া উচিত নয়। ঐতিহাসিক স্থাপনার সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে ভবন নির্মাণের সময় সাংস্কৃতিক দিকগুলো বিবেচনায় নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মকর্তাদের মতে, গত দুই দশকে দেশের বহু শহরে নিয়ন্ত্রণহীন ও মানহীন ভবন নির্মাণ একটি গুরুতর সমস্যায় পরিণত হয়েছে। হেরাত প্রদেশে ঐতিহাসিক নিদর্শনের আশপাশে গড়ে ওঠা এমন ভবনগুলো এসব স্থাপনার স্থাপত্যিক সৌন্দর্য ও কাঠামোগত ভারসাম্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নতুন নির্মাণ অনুমোদন কেন্দ্রগুলো এই দীর্ঘদিনের সমস্যা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তথ্যসূত্র:
1. New Offices Open Across Afghanistan to Standardize Construction
– https://tinyurl.com/n3e2k62c


