মংডুতে রোহিঙ্গা ব্যবসায়ীদের থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করে নিচ্ছে আরাকান আর্মি

0
9

আরাকানের উত্তর মংডু টাউনশিপে রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক বাড়ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সশস্ত্র পক্ষগুলোর বারবার অর্থ দাবির কারণে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে দৈনিক ‘রোহিঙ্গা খবর’ এক প্রতিবেদনে জানায়, গত ২০ জানুয়ারি বৌদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) কর্তৃক উত্তর মংডুর একটি উদ্ধার শিবিরের কাছে বিভিন্ন গ্রামের ২৫ জন রোহিঙ্গা ব্যবসায়ীকে একটি বৈঠকে ডাকা হয়। এসব গ্রামের মধ্যে ছিল শুয়ে জার, পাউং জার, হ্লা বাউ জার, পিন ফিউ, কিয়াউক হ্লা কার, হারবি ও থায়েত ওক। বৈঠকে গ্রামপ্রধান ও আরাকান আর্মির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিল।

বৈঠকে আরাকান আর্মির প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা ব্যবসায়ীদের কাছে দাবি করে যে, বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ম্রাউক ইউ সরকারি হাসপাতাল পুনর্নির্মাণের জন্য অর্থ প্রয়োজন। সে জন্য প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ কিয়াত (মিয়ানমারের টাকা) পর্যন্ত দিতে বলা হয়। বৈঠক শেষে মোট ২ কোটি কিয়াতের বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

একজন রোহিঙ্গা ব্যবসায়ী জানান, এই অর্থ প্রদান স্বেচ্ছাসেবী ছিল না। তিনি বলেন, ‘তারা বলেছে এটা হাসপাতালের জন্য, কিন্তু আমাদের কোনো উপায় ছিল না। টাকা না দিলে আমাদের জীবনের কী হতে পারে, সেই ভয়ে আমরা দিতে বাধ্য হয়েছি।’

স্থানীয়রা জানান, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ওই এলাকার আরাকান আর্মি কর্তৃক রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে বারবার অর্থ দিতে এবং বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক মেরামত, ঝোপঝাড় পরিষ্কার ও চিংড়ি ঘেরের কাজ। এমনকি এসব কাজের খরচও রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর কাছ থেকেই আদায় করা হয়।

আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা বারবার টাকা দিচ্ছি। আয় না থাকলেও টাকা চাইছে। কোনো কোনো মাসে তিন-চারবার পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এভাবে মানুষ টিকে থাকতে পারে না।’

বাসিন্দারা জানান, এসব দাবি অনানুষ্ঠানিক এবং কোনো লিখিত নথি ছাড়াই আদায় করা হয়, তবে বিষয়টি সবারই জানা। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে গবাদিপশু বিক্রি করছে, সঞ্চয় লুকিয়ে রাখছে কিংবা ঋণ করে এই অর্থ জোগাড় করছে।

সম্প্রতি এই চাপ আরও বেড়ে যাওয়ায় কিছু রোহিঙ্গা ব্যবসায়ী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনেক পরিবার দোকান, বাড়িঘর ও বছরের পর বছরের জীবিকা ফেলে বাংলাদেশে পাড়ি জমিয়েছে। শুয়ে জার গ্রাম ও মংডু শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি পরিবার পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। কেউ পরিবারসহ সীমান্ত পার হয়েছে, আবার কেউ রাতের আঁধারে কেবল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে এলাকা ছাড়ে।

একজন রোহিঙ্গা ব্যক্তি বলেন, ‘মানুষ ইচ্ছায় যাচ্ছে না। এখানে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলেই তারা চলে যাচ্ছে।’


তথ্যসূত্র:

১। Rohingya Businesspeople Forced to Pay Large Sums in Maungdaw
– https://tinyurl.com/44hzd4yf

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধতীব্র শীতের মধ্যে যানবাহন পুনরুদ্ধারে জনগণের পাশে গজনি প্রদেশের গভর্নর
পরবর্তী নিবন্ধজাওযান প্রদেশে দুই পরিবারের মধ্যকার জমির মালিকানা কেন্দ্রিক ৭৫ বছরের বিরোধ সমাধান