
মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলার ঘোটি-নান্দোরা গ্রামে ১০টি মুসলিম পরিবারকে বয়কট করেছে গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়। গত জানুয়ারি মাসে উক্ত গ্রামে অনুষ্ঠিত হিন্দু ধর্মীয় সমাবেশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা উস্কে দিয়েছিল হিন্দুত্ববাদীরা। হিন্দুত্ববাদী বক্তব্যের ফলস্বরূপ স্থানীয় হিন্দু জনগোষ্ঠীরা গ্রামের সংখ্যালঘু মুসলমানদের বয়কট করা শুরু করেছে।
এর ফলে দৈনন্দিন লেনদেন, সেবা আদান-প্রদান ও জীবিকা উপার্জনের ক্ষেত্রে মুসলিম পরিবারগুলোকে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হচ্ছে। সমাবেশে মুসলমানদের সাথে সব ধরনের পণ্য কেনাবেচা করতে নিষেধ করেছে হিন্দুত্ববাদী বক্তারা।
ফলস্বরূপ মুসলমানদের কাছে পণ্য বিক্রয় বন্ধ করে দিয়েছে হিন্দু মুদি দোকানিরা। মুসলিম ড্রাইভারদের গাড়িতে হিন্দু ব্যক্তি বা শিশুদের ভ্রমণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। মুসলমানদের থেকে সেবা গ্রহণ ও তাদেরকে কোনও প্রকার সেবা প্রদান করেছে না গ্রামের হিন্দুরা।
সংখ্যালঘু মুসলিম পরিবারগুলোর অভিযোগ, এই বয়কটের উদ্দেশ্য হল তাদেরকে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া। তারা আরও জানান, বহু বছর ধরে তারা এই গ্রামে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন, কিন্তু বর্তমানে তারা আতঙ্কিত এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছেন।
এক মুসলিম বাসিন্দা জানান, হিন্দু সম্মেলনে কি আলোচনা হয়েছিল, কেন হয়েছিল, এসব নিয়ে কথা তোলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। আমরা এমন কলহপূর্ণ পরিস্থিতি ইতোপূর্বে দেখিনি।
তবে গ্রামের সচেতন নাগরিকদের অনেকেই মতামত দিয়েছে, এই ধরনের বয়কট ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি অবিলম্বে তদন্ত করা উচিত বলে তারা উল্লেখ করেন। তদন্ত না হলে এই বয়কট গ্রামে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং সামাজিক কাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে তারা সতর্ক করেন।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/hd73m4ey


