
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের হরিদ্বার জেলায় মোহাম্মদ ফিরোজ নামে একজন মুসলিম ট্রাকচালক উগ্র হিন্দুত্ববাদী জনতার দ্বারা নির্মম নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
২২ ফেব্রুয়ারি বিবিসি নিউজ হিন্দিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এক সময় তিনি রাজ্যের সীমান্তের বাইরেও নির্ভয়ে পণ্য পরিবহনের উদ্দেশ্যে যাতায়াত করতেন। কিন্তু এখন তিনি নিজ শহরেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি হিন্দুত্ববাদীদের হামলার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন। উক্ত দিন রাত ১১:৩০ এর দিকে তিনি গাড়ি পার্ক ও অফিস চেক করে চলে যাচ্ছিলেন। কাছাকাছি তিনি দু’জন লোক দেখতে পান। একটু পর এই লোকেরা তার সামনে আসে, তার কলার চেপে ধরে এবং নাম বলার জন্য জোরাজুরি করতে থাকে।
ভুক্তভোগীর মুসলিম পরিচয় প্রকাশ হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠে। তৎক্ষণাৎ সেখানে আরও ১০-১২ জন উগ্র হিন্দুত্ববাদী যোগ দেয়। তারা লাঠি, বেল্ট ও অন্যান্য জিনিস দিয়ে তাকে নির্মমভাবে মারধর করেছে।
ভুক্তভোগী ফিরোজ বলেন, তারা আমাকে পশুর মতো মারধর করেছে। তিনি স্মরণ করে জানান, হামলাকারীদের অনেকেই একটি কালো স্কারপিও গাড়িতে করে এসেছিল। হামলাকারীরা উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদের বহিরাগত বলে জানা গেছে।
তিনি আক্ষেপ করে জানান, পরিবারের ভরণপোষণের জন্য তিনি বছরে ২৫,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গাড়ি চালাতেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি গাড়ি চালাতে অনেক বেশি আতঙ্কবোধ করছেন।
তিনি বলেন, যেখানে নিজের এলাকায় এভাবে নিপীড়নের জন্য টার্গেট হতে হয়, সেখানে রাস্তায় কি হতে তা তো কল্পনার বাহিরে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। তারা জোর দিয়ে জানিয়েছে, ধর্মীয় কুসংস্কার থেকে এই হামলা ঘটানো হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে আরও গভীর করছে। একটি সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজে এমন ঘটনা কখনও কাম্য ছিল না।
একজন বাসিন্দা বলেন, এখন অনুভব হচ্ছে হিন্দুরা একপক্ষ আর মুসলমানরা তাদের প্রতিপক্ষ। অপরদিকে উক্ত ঘটনায় ধর্মীয় প্রতিহিংসার ইঙ্গিত প্রত্যাখ্যান করেছে হরিদ্বার পুলিশ।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/24tcxz9j


