
ভারতের বিহার রাজ্যের মধুবনী জেলায় এক মুসলিম শ্রমিককে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে মারধর করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। এই সময় তারা তাকে হেনস্থা করে দীর্ঘ পথে জোরপূর্বক হাঁটতে বাধ্য করেছে, এছাড়া দেবতার নামে বলি দেবে বলে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে।
গত ২ জানুয়ারি দি অবজারভার পোস্ট নিউজে এই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী এই শ্রমিকের নাম খুরশিদ আলম। তার উপর সংঘটিতে মবের ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, আমি কাজ করছিলাম এবং অল্প সময়ের জন্য নিকটবর্তী একটি দোকানে গিয়েছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি আমার নিকট এসে আমাকে ‘জয় শ্রীরাম, জয় সীতা রাম ও ভারত মাতা কি জয়’ এই স্লোগানগুলো দিতে বাধ্য করতে লাগল।
কিন্তু আমি ধর্মীয় স্লোগানগুলো দিতে অস্বীকার করি, এর পরিবর্তে কেবল ‘ভারত কি জয়’ এই দেশাত্মবোধক শ্লোগান দিতে রাজি হই।
ঐ ব্যক্তি আমার এই কথাগুলোর ভিডিও রেকর্ড ভাইরাল করে এবং চলে যায়।
ভুক্তভোগী এই শ্রমিক আরও বর্ণনা করেন, প্রায় এক ঘণ্টা পর সে আবার ফিরে আসে এবং আমাকে হুমকি দিতে থাকে। সে হুমকি দিয়ে জানায়, যদি আমি হিন্দুত্ববাদী স্লোগান না দেই তবে সে আমাকে ধরে নিয়ে যাবে।
তখন সেখানে আরও কিছু উগ্র হিন্দু উপস্থিত হয়ে আমাকে বাংলাদেশি বলে অভিহিত করে মারধর শুরু করে।
এক পর্যায়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা আমাকে গ্রামের দিকে হেঁটে যেতে বাধ্য করে, প্রায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার ধরে তারা আমাকে হেনস্থা ও মারধর করতে থাকে। তারা হুমকি দেয়, পথে একটি কালি মন্দির রয়েছে। সেখানে তারা আমাকে বলি দেবে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রায় ৫০ জন হিন্দুত্ববাদী তার উপর নৃশংসভাবে হামলা চালায়। এই সময় তারা প্রকাশ্যে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/2yj5jtfu


