
জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব ও পানিসম্পদের উল্লেখযোগ্য ঘাটতির মধ্যেও ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রেখেছে দা আফগানিস্তান ব্রেশনা শেরকত (DABS)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং বিকল্প জ্বালানির সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে এই সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে।
দা আফগানিস্তান ব্রেশনা শেরকতের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সৌর বছরে কাজাকি জলবিদ্যুৎ বাঁধ থেকে প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই বিদ্যুৎ মূলত কান্দাহার ও হেলমান্দ প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।
এছাড়া জলবিদ্যুতের পাশাপাশি সৌর ও তাপবিদ্যুৎ উৎস থেকে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ব্রেশনা শেরকতের প্রধান কর্মকর্তা সাফিউল্লাহ আহমাদজাই হাফিযাহুল্লাহ জানান, শুধু সৌর উৎস থেকেই প্রায় ৪ হাজার ৬শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চলতি সৌর বছরের জন্য দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ লিটার ডিজেল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কাজাকি বাঁধে পানির স্বল্পতা বা উৎপাদন হ্রাসের সময় এই ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন একটি বিকল্প সমাধান হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
সাফিউল্লাহ আহমাদজাই হাফিযাহুল্লাহ বলেন, এখন পর্যন্ত কান্দাহার ও হেলমান্দ প্রদেশে বিদ্যুৎ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়নি এবং ব্যাপক ব্ল্যাকআউট এড়াতে প্রয়োজনীয় কৌশল বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু আফগানিস্তানেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক একটি বাস্তবতা। গত বছরের তুলনায় পানির স্তর প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে।
তিনি আরও জানান, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গজনি থেকে কান্দাহার পর্যন্ত ২২০ কিলোভোল্ট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও সংশ্লিষ্ট উপকেন্দ্র নির্মাণকাজ প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্প শেষ হলে দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা আরও সহজ হবে।
তথ্যসূত্র:
1. DABS: Renewable and Kajaki Electricity Continues Amid Climate Challenges
– https://tinyurl.com/3jups7b7


