হাদি হত্যা মামলায় ডিবির অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিল করলেন আবদুল্লাহ জাবের

0
29

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদিকে (হাফিযাহুল্লাহ) হত্যা মামলায় ডিবি পুলিশের দেওয়া চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন দাখিল করেছেন মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।

এক প্রতিবেদনে দৈনিক আমার দেশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটে আবেদন দাখিল করেন তার আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল। তবে আদালত বাদীর নারাজির আবেদন গ্রহণ করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল এতথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এই চার্জশিট তদন্ত কর্মকর্তা কেবলমাত্র জমা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল এজন্য দিয়েছেন। এখানে মূল হত্যার পরিকল্পনাকারীদের সাথে হত্যাকারী শুটারদের কি সম্পর্ক তা উল্লেখ করা হয়নি। হাদি কোনো সাধারণ মানুষ ছিলনা। তাকে হত্যার জন্য অবশ্যই বড় কোনো পরিকল্পনা ছিল। এজন্য তাকে প্রকাশ্যে গুলি করা হয়েছে। যেনো কেউ আর হাদির মত ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস না পায়। এ আইনজীবী আদালতে আরো জানায়, পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে আওয়ামী লীগের একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলেরর কথা বলা হয়েছে। এটা হাস্যকরা, একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ সাহস করার কথা না। অবশ্যই বড় কোনো পরিকল্পনা ছিল। এজন্য এ চার্জশিটের ওপর আমরা নারাজি দিয়েছি। এখানে শুধু ফয়সালকে দেখানো হয়েছে। তার চেক জব্দ করেছে এটা হাস্যকর ব্যপার। এটা কি ধরনের তদন্ত? প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার পর কিভাবে সেফ এক্সিট পায়? কিভাবে হত্যাকারীর সাথে পরিকল্পনাকারী পালাতে সাহায্য করলো তাদের কথা বলা হয়নি চার্জশিটে। আইনজীবী আরো বলেন,শরীফ ওসমান হাদি বারবার বলতেন ন্যায় বিচারের কথা এবং তিনি তাকে যদি মেরে ফেলে সেই ন্যায় বিচারটাও চাইতেন। এজন্য আমরা ন্যায় বিচারের স্বার্থে এ নারাজি দিয়েছি।

গত ৬ জানুয়ারি এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। এরপর গত ১২ জানুয়ারি মামলার বাদী আদালতে হাজির হয়ে পুলিশের দেওয়া চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় নেন। আদালত ওইদিন চার্জশিট গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে শুনানির জন্য আজ বৃস্পতিবার তারিখ ধার্য করে।

চার্জশিটের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ, ফয়সালের সহযোগী আলমগীর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্নাল ফিলিপস, মুক্তি আক্তার এবং ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার। তারা পলাতক আছে।

‎মামলার অভিযোগে বলা হয়, শরীফ ওসমান হাদি অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্লাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটর সাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তার মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক জখম প্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহ পর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর মারা যান।

এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলাটি করেন। পরবর্তীতে এটা হত্যা মামলায় রুপান্তর নেয়।


তথ্যসূত্র:
১। হাদি হত্যা: ডিবির অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিল
– https://tinyurl.com/3c3b6djc

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধরংপুরের বদরগঞ্জে অজ্ঞাত নারীর বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার
পরবর্তী নিবন্ধকান্দাহার–উরুজগান সংযোগ সড়কে ৭৯২ মিলিয়ন আফগানির উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন