
সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত নয়াদিল্লী আন্তর্জাতিক বইমেলা ২০২৬ সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে শিকাগো ভিত্তিক প্রসিদ্ধ মনোবিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন। তিনি জানিয়েছে, নয়াদিল্লীতে গত ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি আয়োজিত আন্তর্জাতিক বইমেলায় তার অভিজ্ঞতা ছিল খুবই হতাশাজনক।
তার মতে, এটি ছিল সুচিন্তিতভাবে হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শ প্রচারের একটি মঞ্চ। মেলায় ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সরকারী প্রকাশনা সংস্থাসমূহের স্টলগুলো হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শ, হিন্দু ধর্ম এবং হিন্দু পৌরাণিক কাহিনীর বইয়ে ভর্তি ছিল। সেখানে অন্যান্য ধর্মের আইকন এবং ঐতিহ্যগুলো স্পষ্টতই অনুপস্থিত ছিল, অন্যান্য ধর্মীয় বইকে কোন স্থান দেওয়া হয়নি।
মেলায় একজন দর্শনার্থীর সর্বপ্রথম যে বিষয়টি নজরে পড়বে তা হল, হিন্দুত্ববাদ কেন্দ্রিক বিষয়াবলীর একচেটিয়া উপস্থিতি। শিশুদের বিভাগে বইয়ের তাকগুলো রামায়ণ, মহাভারত এবং দেবদেবীদের গল্পের আধিপত্য ছিল। এই বিষয়গুলোর উপস্থিতির মধ্যে আধুনিক বিজ্ঞান, পরিবেশ বা বিভিন্ন সামাজিক ইস্যু সংক্রান্ত বিষয়গুলো তেমন দৃষ্টিগোচর হয়নি।
আঞ্চলিক ভাষা বিভাগে একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। সেখানেও হিন্দু ধর্মীয় সাহিত্য সর্বোচ্চ রাজত্ব করেছে। অথচ উর্দু, সংখ্যালঘুদের ভাষা এবং প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিকে তেমন গুরুত্ব পায় নি।
মেলার মূলথিম ছিল, ভারতীয় সামরিক ইতিহাস – বীরত্ব ও প্রজ্ঞা। সশস্ত্র বাহিনী সম্মান জানানোর উদ্যোগে মেলার আয়োজন করা হলেও কেবল হিন্দু ধর্ম ও হিন্দুত্ববাদী সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণে এটিকে সাজানো হয়েছিল। এটি বর্তমান ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক মতবাদের একটি প্রতিফলন হিসাবে কাজ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের কাটআউট ও সেলফি পয়েন্টের ব্যাপক উপস্থিতি মেলার মতো একটি সাহিত্যিক অনুষ্ঠান যেন সরকারী প্রচারণার মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়েছিল। অনেক স্টলে প্রচারিত সাহিত্যকর্মে ‘লাভ জিহাদ’ এর মতো ইসলামবিদ্বেষি ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো স্থান লাভ করেছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/5n7vk4r


