
হেরাত প্রদেশে উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা চালু হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশী দেশে যাওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। হেরাত প্রদেশের জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ রোগী নিজ দেশেই চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারছেন, যা স্বাস্থ্যখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, অর্থোপেডিকস, হৃদরোগ, স্নায়ুরোগ, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নত বিশেষায়িত অস্ত্রোপচার চালু করা হয়েছে। এসব অস্ত্রোপচার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
হেরাত প্রদেশের জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসা সেবা বিষয়ক উপপরিচালক মোহাম্মদ দাউদ রহমানী বলেন, এতদিন জনগণের বিপুল অর্থ বিদেশে চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হতো। আঞ্চলিক হাসপাতাল ও বেসরকারি খাতের সহযোগিতায় এখন নিজ দেশেই উচ্চমানের চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ায় সেই অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
হেরাত প্রদেশে প্রথমবারের মতো অর্থোপেডিকস অর্থাৎ অস্থি চিকিৎসায় জটিল অস্ত্রোপচার শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মতে, আগে হাঁটু, কনুই ও কাঁধের জয়েন্ট প্রতিস্থাপনসহ বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের বাধ্য হয়ে প্রতিবেশী দেশে যেতে হতো। বর্তমানে এসব অস্ত্রোপচার সফলভাবে হেরাতেই সম্পন্ন হচ্ছে।
অনেক রোগী জানান, বিদেশে বিপুল ব্যয় না করে নিজ দেশেই এখন তারা তুলনামূলক ভালো চিকিৎসা পাচ্ছেন। দেশে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা থাকলে রোগীদের আর বাইরে যেতে হবে না এবং নিজ শহরেই চিকিৎসা করানো সম্ভব হবে।
হেরাত প্রদেশের জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আরও জানান, পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ হওয়ার পর থেকেই এসব উন্নত অস্ত্রোপচার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশে অবস্থানরত বেশ কয়েকজন আফগান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হেরাত প্রদেশে ফিরে এসে চিকিৎসা সেবায় যুক্ত হয়েছেন, যা এই খাতকে আরও শক্তিশালী করেছে।
তথ্যসূত্র:
1.Herat Sees Major Healthcare Gains as Fewer Patients Travel Abroad
– https://tinyurl.com/ydk7y2a4


