মালির রাজধানী অভিমুখী জ্বালানি কনভয়ে জেএনআইএম এর হামলা: অর্ধশতাধিক ট্যাঙ্কার ও বেশ কিছু যান ধ্বংস

0
30

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির রাজধানী বামাকো অভিমুখী জ্বালানি ট্যাঙ্কারগুলিতে জেএনআইএম মুজাহিদদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় দলটির মুজাহিদিনরা গত ২৯শে জানুয়ারি, দেশটিতে জান্তা বাহিনীর জন্য সরবরাহকৃত কয়েক ডজন জ্বালানি ট্যাঙ্কারের একটি কনভয়ে বড়সড় অতর্কিত আক্রমণ চালিয়েছেন।

আঞ্চলিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯শে জানুয়ারি বৃহস্পতিবার, সেনেগালের সীমান্ত থেকে পশ্চিম মালির কাইস শহরের দিকে যাওয়ার পথে একটি বড় ধরনের সামরিক অপারেশন চালিয়েছেন আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) মুজাহিদিনরা। মালির জান্তা প্রশাসনের জন্য জ্বালানি পরিবহনকারী ট্রাকের একটি নতুন কনভয় লক্ষ্য করে এই হামলাটি চালানো হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রগুলো কনভয়ে হামলার পরের বেশ কিছু ভিডিও চিত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছে, যেখানে সড়কের দু’ধারে কয়েক ডজন জ্বালানি ট্যাঙ্কার পুড়তে দেখা গেছে, যার সংখ্যা ৫০ এরও বেশি। এছাড়াও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জান্তা বাহিনীর সামরিক যানগুলো লক্ষ্য করেও তীব্র আক্রমণ চালিয়েছেন মুজাহিদিনরা, ফলশ্রুতিতে আরও বেশ কিছু সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে। এই হামলার ফলে জান্তা বাহিনীর কয়েক ডজন সৈন্য নিহত হয়েছে এবং আরও কয়েক ডজন সৈন্য ও ট্রাক চালককে মুজাহিদিনরা জীবিত বন্দী করে নিয়ে গেছেন।

এদিকে আয-যাল্লাকা মিডিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জেএনআইএম কনভয়ে অতর্কিত এই অভিযানের তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। তবে বিবৃতিতে শত্রুর মানবিক ও বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, জেএনআইএম মুজাহিদিনরা চার মাসেরও বেশি সময় ধরে, দক্ষিণ ও পশ্চিম মালির উপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে চলছেন। এই দুটি এমন অঞ্চল, যেই পথ ধরে সেনেগাল এবং আইভরি কোস্ট থেকে মালির জান্তা প্রশাসন জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। এই অবরোধের ফলে জান্তা কর্তৃপক্ষ গত বছর বিভিন্ন সরকারি অফিস, স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়েছিল। পরে জ্বালানি সরবরাহের উপর কিছুদিনের জন্য অবরোধ শিথিল করতে জেএনআইএম এর সাথে একটি চুক্তি করতে বাধ্য হয় জান্তা এবং রাশিয়ান সৈন্যদের সমন্বয়ে গঠিত সামরিক সরকার। এই চুক্তির ফলে গত বছরের ডিসেম্বরে বামাকোতে বেশ কিছু সরবরাহ কনভয় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।

তবে, চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারির শুরু থেকেই, জেএনআইএম মুজাহিদিনরা তাদের আক্রমণ আবারও তীব্র করেছেন। ফলে মালির রাজধানী এবং অন্যান্য শহর জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। আর জেএনআইএম এর এই আক্রমণগুলি উল্লেখযোগ্যভাবে কায়েস অঞ্চলে পরিচালিত হচ্ছে। অঞ্চলটি খনিজ সম্পদ এবং একটি সংযোগস্থল অবস্থানের কারণে কৌশলগত।


তথ্যসূত্র:
– https://chirpwire.net/thread/1057850

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধজম্মু ও কাশ্মীরে কিস্তোয়ার জেলায় অভিযান চলাকালে অন্তত ৪ দখলদার ভারতীয় সেনা আহত