
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) হিম উৎসবের নামে একটি পালাগানের পরিবেশনায় সূরা ‘আন–নাস’ এর বিকৃত উপস্থাপনের ঘটনা ঘটেছে। এই গানের গায়ক ছিল এছহাক সরকার ও ছনিয়া সরকার নামে দুই ভণ্ড।
গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবি চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানায়, ছবি চত্বরে চলমান পালাগানের একটি অংশে নারী ও পুরুষের গুণাবলি নিয়ে গানে গানে আলোচনা হচ্ছিল। এর ধারাবাহিকতায় পুরুষ বাউল শিল্পী কুরআনের সর্বশেষ সূরা সূরা নাসের কথা উল্লেখ করে। সে সূরাটির কিছু অংশ অসম্পূর্ণভাবে পাঠ করে মন্তব্য করে, ‘পুরা সূরা জুড়েই নাচতে বলা হয়েছে, যত নাচবি, তত বাঁচবি।’ এরপর সে নৃত্যসংক্রান্ত একটি গান শুরু করে দর্শকদের নাচের আহ্বান জানায়।
এই বক্তব্য শোনার পর দর্শক সারিতে অস্বস্তি তৈরি হয়। এর মধ্যেই দুইজন শিক্ষার্থী হঠাৎ করে মঞ্চে উঠে শিল্পীর হাত থেকে মাইক নিয়ে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই শিল্পী তাৎক্ষণিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে সরি বলে। তবে এর মধ্যেই আয়োজকদের একটি গ্রুপ প্রতিবাদ জানানো দুইটি ছেলের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে তাদের টেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে নিয়ে জিজ্ঞেসাবাদের নামে হেনস্থা করে।
এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে ক্যাম্পাসে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শহীদ মিনারে জড় হতে থাকে।
ওইদিন দিবাগত রাত প্রায় দুইটার দিকে একদল শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত করেন যে প্রক্টরিয়াল টিমের প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র:
১। জাবিতে পালাগানে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ
– https://tinyurl.com/mr3m4ped


