
আফগানিস্তানে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সমন্বিত জাতীয় নীতি অনুমোদন করেছে ইমারাতে ইসলামিয়া। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কার্যালয়ের অধীনে অর্থনৈতিক কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে এই নীতি অনুমোদন করা হয়। উক্ত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ইমারাতে ইসলামিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী মৌলভী আব্দুল গনি বারাদার হাফিযাহুল্লাহ।
ইমারাতে ইসলামিয়ার উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত হাফিযাহুল্লাহ জানান, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে কৃষি, সেচ এবং প্রাণিসম্পদ খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা এবং সেচ ব্যবস্থাপনার কার্যকর পরিচালনা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি কৃষি, সেচ ও প্রাণিসম্পদ খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং জনগণের জন্য মানসম্মত কৃষি ও প্রাণিজ পণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করাও এই কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনুমোদিত মৎস্য খাত উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৬৫০০ জেরিব (প্রায় ৩,২১১ একর) জমিতে সাত হাজার সাতশ ছোট, মাঝারি ও বৃহৎ মৎস্য খামার স্থাপন করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং পরোক্ষভাবে আরও প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষের জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক কুতবুদ্দিন ইয়াকুবি বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্য খাতে দেশের স্বনির্ভরতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অপর অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ নবী আফগান বলেন, মৎস্য উৎপাদন ও খামার ব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম এবং এ খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
ইমারাতে ইসলামিয়া বরাবরই তাদের নীতিকে অর্থনীতিনির্ভর হিসেবে উল্লেখ করে আসছে এবং বিভিন্ন খাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্বনির্ভরতা অর্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে। কৃষি ও মৎস্য খাতে নতুন এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তথ্যসূত্র:
1.Afghanistan Approves Agriculture and Fish Farming Plan
– https://tinyurl.com/5yj5c83a


