আশ-শাবাবের বিজয় অভিযান রুখতে সোমালিয়ায় তুর্কি ট্যাঙ্ক

0
22

পূর্ব আফ্রিকা ভিত্তিক জনপ্রিয় ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী হারাকাতুশ শাবাব আল-মুজাহিদিন, যারা সোমালিয়ায় পশ্চিমা-সমর্থিত মোগাদিশু সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই পুতুল সরকারের পরিবর্তে আশ-শাবাব সোমালিয়া জুড়ে একটি ব্যাপক ও স্বাধীন ইসলামী শরিয়াহ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চান। এই লক্ষ্যে দলটি সোমালিয়া জুড়ে সামরিক বিজয় অভিযানের পাশাপাশি একটি সুসংগঠিত প্রাশাসনিক কাঠামোতে কাজ করে যাচ্ছেন। আর আশ-শাবাবের এই ইসলামি রাষ্ট্র কাঠামোর অগ্রগতি রুখতে পশ্চিমা বিশ্ব এবং ক্রুসেডার বাহিনীর সাথে পাল্লা দিয়ে মোগাদিশু বাহিনীকে সামরিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক, মিসর, আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের মতো মুসলিম দেশগুলো।

এই লক্ষ্যে সম্প্রতি মিসরের বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তার পর, গত ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ তারিখে তুরস্কের T-62 এবং M60 মডেলের আধুনিক ট্যাঙ্কগুলি মোগাদিশু বন্দরে পৌঁছেছে। পরে সেগুলো সামরিক ট্রাকে করে রাজধানী মোগাদিশুর রাস্তা দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত ভিডিওগুলিতে তুর্কি নৌবাহিনীর একটি জাহাজ থেকে নামানোর পরে এই যানবাহনগুলির আগমন দেখা গেছে। মোগাদিশু সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছে যে, এই সরবরাহের লক্ষ্য শাবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত মোগাদিশু সরকারের জাতীয় সেনাবাহিনীকে আধুনিকীকরণ করা এবং আশ-শাবাবের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ সক্ষমতা জোরদার করা।

সোমালিয়ায় উত্তেজনাপূর্ণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কারণ আশ-শাবাব মুজাহিদিনরা দেশের মধ্য ও দক্ষিণ অংশে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে একের পর এক নতুন এলাকা বিজয় ও পুনরুদ্ধার করছেন, যা ভঙ্গুর মোগাদিশু সরকারের জন্য সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এই সরঞ্জামের চালান সোমালি সরকারের প্রতি বৃহত্তর তুরস্কের সমর্থনের অংশ, যার মধ্যে রয়েছে দুই দেশের মধ্যে বহু-বছরের প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে সৈন্যদের প্রশিক্ষণ এবং বিমান ও স্থল সহায়তা প্রদান।

সোমালিয়ায় তুর্কি ট্যাঙ্কের আগমন সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে দেশকে স্থিতিশীল করার দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন এবং অন্যরা এটিকে পূর্ব আফ্রিকায় তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তারের অংশ হিসেবে দেখছেন।

সোমালিয়ায় তুরস্কের এই সামরিক পদক্ষেপগুলি পূর্ব আফ্রিকায় পশ্চিমা আধিপত্যের প্রতি তুরস্কের প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরে। যখনই আন্তর্জাতিক জোট আশ-শাবাব মুজাহিদদের পরাজিত করতে ব্যর্থ হয়, তখনই তুরস্ক মোগাদিশুর ভঙ্গুর সরকারকে সমর্থন করার জন্য এবং এর পতন রোধ করার জন্য হস্তক্ষেপ করে। ফলে সংঘাত আরও তীব্র হয় এবং সমাধান প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হয়।


তথ্যসূত্র:
– https://tinyurl.com/5dw69mu5

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধ১৮.৩ মিলিয়ন আফগানি ব্যয়ে জাবুল প্রদেশে নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ সম্পন্ন