১৪ বছর ধরে দূর্ভোগের শিকার সাধারণ জনগন, নেই কোন উদ্যোগ

0
60

নিচে ভয়াবহ গভীরতা। মাত্র একটি বাঁশে ভর করে প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চললেও সংযোগ সড়কটি মেরামত করা হয়নি। গত শুক্রবার মেলান্দহের মাহমুদপুর ইউনিয়নের খাশিমারা গ্রামে। দীর্ঘদিনেও জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের খাশিমারা গ্রামের একটি সেতুর সংযোগ সড়ক মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে ১৪ বছর ধরে দুর্ভোগে রয়েছে ৯ গ্রামের মানুষ। ভাঙা অংশে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে তারা। এতে দুর্ঘটনাও ঘটছে।

গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, দুর্গম গ্রাম খাশিমারা। গ্রামে ঢোকার রাস্তাও কাঁচা। গ্রামের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে উমরা নদী। এই নদীর ওপর সেতুটি। সেতুর পশ্চিম পাশে প্রায় ৫০ মিটার সংযোগ সড়ক ভাঙা। সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়ক ভেঙে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সেখানে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙা অংশ দিয়ে চলাচলের জন্য একটি লম্বা বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। সেটিও নড়বড়ে। এটি দিয়ে পারাপার হওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুর পূর্ব পাশের সংযোগ সড়কও ভেঙে গেছে। লোকজন ঝুঁকি নিয়ে একটি বাঁশের ওপর দিয়ে চলাচল করছে।

কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, ২০০১ সালে সেতুটি নির্মিত হয়। নির্মাণের পর ২০০৫ সালে সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। সময় যত বেড়েছে, ভাঙন আরও বড় হয়েছে। ১৪ বছরেও ভাঙা অংশটুকু মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এরপর গ্রামবাসী মিলে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করেছেন। কিন্তু বড় ভাঙার কারণে সাঁকোও বেশি দিন টেকে না। সাঁকো ভেঙে যাওয়ার পর কয়েক বছর যোগাযোগ একদম বন্ধ ছিল। পরে একটি বাঁশ দিয়ে লোকজন চলাচল করছে। সেতুটি দিয়ে খাশিমারা, দক্ষিণ খাশিমারা, রোনাইপাড়া, পুটায়পাড়া, নলকুঁড়ি, নাংলা, ফকিরপাড়া, কাজাইকাটা ও নলছিয়া গ্রামের লোকজন যাতায়াত করে।

খাশিমারা গ্রামের নূরুল ইসলাম বলেন, ভাঙা অংশের জন্য তাঁদের কষ্টের শেষ নেই। চারপাশ দিয়ে নদী। সেতুটি ছাড়া পারাপার হওয়া যায় না। ১৪ বছর ধরে এটি ভাঙছে। কিন্তু কোনো দিনও এটি সরকারিভাবে মেরামত হয়নি। বর্তমানে একটি বাঁশ দিয়ে কোনো রকমে লোকজন চলাচল করে।

নূরুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি বাঁশ থেকে পড়ে বিভিন্ন সময় চারজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা হলেন মো. রিফাত (১২), জাকিরুল ইসলাম (৪), সাথি আক্তার (৯) ও আব্দুল হালিম (৩৫)।

রোকনাইপাড়া গ্রামের জবেদা বেগম তাঁর নাতিকে নিয়ে একটি বাঁশ দিয়ে ভাঙা অংশ খুবই সাবধানে পার হলেন। তিনি বলেন, এই ভাঙা অংশ অনেক গভীর। একটি বাঁশে পা রেখে পারাপার হতে খুব ভয় লাগে। ছোট নাতিকে নিয়ে খুব কষ্টে পার হলেন। কত বছর ধরে এই কষ্ট করছেন। কিন্তু এটি আর মেরামত হয় না।

জবেদা বেগম জানান, গত বছর তাঁর নাতনি সাথি আক্তার স্কুলে যাওয়ার সময় বাঁশ থেকে পড়ে যায়। এতে গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন সে ঘরে পড়ে ছিল। এভাবে প্রায়ই লোকজন বাঁশ থেকে পড়ে আহত হয়।
খবরঃ প্রথম আলো

রোকনাইপাড়া গ্রামের তারা মিয়া বলেন, তাঁদের কপালই খারাপ। ১৪ বছরেও ভাঙা অংশ মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ১৪ বছর ধরে লোকজন ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে। সেতুর সুফল তাঁরা ভাঙা অংশের জন্য পাননি। তিনি বলেন, ‘ভাঙা অংশ মেরামতের জন্য গ্রামের সবাই এক হয়ে, অনেক জায়গায় গিয়েছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। কেউ ভাঙা অংশ মেরামতে এগিয়ে আসেনি। তাই বর্তমানে এটা মেরামতের আশা আমরা ছেড়েই দিয়েছি।’

সেতুটি পার হয়ে খাশিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খাশিমারা উচ্চবিদ্যালয়ে যায় শিক্ষার্থীরা। ভাঙা অংশটুকু খুবই ঝুঁকি নিয়ে পার হয় শিক্ষার্থীরা। খাশিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলে, ভাঙা অংশ পার হতে তাদের খুব ভয় লাগে। অনেক উঁচুতে বাঁশটি থাকায় তা নড়বড়ে। মাঝেমধ্যে মনে হয়, এই বুঝি বাঁশ থেকে তারা পড়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন