সীমান্তে ২৩দিনে নিহত ১৫, সামরিক আগ্রাসনে রূপ নিবে না তো?

0
555
সীমান্তে ২৩দিনে নিহত ১৫, সামরিক আগ্রাসনে রূপ নিবে না তো?

বছরের পর বছর বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত মুসলিমদেরকে হত্যা করে আসছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারতের সীমান্তসন্ত্রাসী বিএসএফ। সীমান্ত হত্যার কথা উঠলে মনে হয়, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা চলছে, ভারতীয়রা  সীমান্ত এলাকা দখল করার জন্য বাংলাদেশীদের হত্যা করছে!  গত ২৩ দিনেই ভারতীয় মালাউনরা ১৫জন বাংলাদেশীকে সীমান্তে হত্যা করেছে। এ যুদ্ধ নয়তো কি?

সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বছরজুড়ে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন ১৪ জন বাংলাদেশী। সেখানে ২০২০ এর প্রথম মাসেই ২০১৮ এর সারা বছরের সীমান্ত হত্যার সংখ্যার চেয়ে বেশি সংখ্যক বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ। কেবল গত ২৩ দিনেই ১৫জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে সীমান্তসন্ত্রাসী ভারতীয় মালাউন বাহিনী। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ মুরতাদ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সংসদে জানায় গত ১০ বছরে সীমান্তে ৩০০ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ। বেসরকারি হিসাবে হয়তো এ সংখ্যা আরো বাড়বে। ২০১৯ সালে ভারতের সীমান্তসন্ত্রাসী বাহিনী- বিএসএফ’র হাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৮ জন বাংলাদেশি। যা ২০১৮ সালের হত্যাকাণ্ডের সংখ্যার প্রায় তিনগুণ।

বাংলাদেশ-ভারত সরকার গত ১০ বছর যাবত পরস্পরকে নিজেদের সবচাইতে ভালো বন্ধু হিসাবে বর্ণনা করে আসছে। সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যাই কি তবে বন্ধুর উপহার? বাংলাদেশ থেকে গরিবদের মুখের অন্ন কেড়ে পূজা উপলক্ষ্যে ভারতে ইলিশ মাছ পাঠাচ্ছে দেশের সরকার, আর এরই প্রতিদান হিসেবে ভারত দিয়েছে লাশ, সীমান্তে চালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাস।

সীমান্তে প্রতিনিয়ত এমন হত্যাকান্ঠের পরেও তীব্র কোন প্রতিবাদ করেনি ভারতপ্রেমী আওয়ামী মুরতাদ সরকার। অথচ, স্বাধীন কোনো দেশের সীমান্তে অন্য দেশের আগ্রাসনে কোনো নাগরিক নিহত হলে, দেশের প্রধান শিরোনাম হয় ঐ ঘটনা। আমরা দেখি ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে যখন এ ধরণের ঘটনা ঘটে, তখন বিরাট শোরগোল এমনকি গুলাগুলিও শুরু হয়ে যায়। অথচ, বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে মসজিদ নির্মাণে বাধা দেয় ভারতীয় মালাউন সীমান্তসন্ত্রাসী বাহিনী, কিন্তু এদেশের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই!

ভারত আজ সীমান্তে আঘাত হানছে, কাল যে আপনার ঘরে আঘাত হানবে না — তার কি কোনো নিশ্চয়তা আছে? আজ যেমন ভারতীয় মালাউন সীমান্তসন্ত্রাসীরা বাংলাদেশী মুসলিমদের হত্যা করলেও এদেশের সরকার এগিয়ে আসেনি, যেদিন আপনার ঘরে মালাউনরা আঘাত হানবে সেদিনও দালাল সরকার আপনার পাশে দাঁড়াবে না। বরং, আপনাকেই মালাউনদের মোকাবেলা করতে হবে। তাই, প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। নয়তো, মালাউনদের সীমান্তসন্ত্রাস যেদিন এদেশে সামরিক আগ্রাসনের রূপ নিবে, সেদিন হয়তো প্রস্তুতি নেওয়ার আর সুযোগ মিলবে না। আল্লাহ মুসলিম জাতিকে হেফাজত করুন, আমীন।


লেখক: ত্বহা আলী আদনান, প্রতিবেদক, আল-ফিরদাউস নিউজ।

 

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন