সিরিয়া, ইদলিব আপডেট : বোমা হামলায় একই পরিবারের সকল সদস্য সহ নিহত১৬ ।

0
596

প্রায় দুই বছর ধরে সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে কসাই বাশার আল-আসাদ এবং সন্ত্রাসী ভ্লাদিমির পুতিনের হানাদার বাহিনী সাধারণ মানুষের উপর পৈচাশিক হামলা চালাচ্ছে । সিরিয়ার শিয়া সরকার ও রাশিয়া-ইরান মিত্রশক্তি মিলে হায়েনার মতো বার বার আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ সব ধ্বংসাত্মক বোমা সাধারণ মুসলিম নিধনে ব্যবহার করছে । বিমান ও রকেট হামলা চালাচ্ছে বাসস্থান ও জনসমাগমের উপর । যার ফলে নিহত হচ্ছে হাজার হাজার সাধারণ মুসলমান । তদুপরি কয়েক লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়েছে, তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল তুরস্ক সীমান্তের গাছ অথবা খোলা আকাশের নিচে,এমনকি প্রচন্ড শীতে তুষার থেকে আশ্রয় নেওয়ার জন্য তাঁবু পর্যন্ত নেই। ইদলিবে তাঁবু থাকা মানে রীতিমতো বিলাসিতা। প্রতিনিয়ত নির্বিচারে এসকল অসহায় গৃহহীন সাধারণ মানুষের উপর অন্যায় ও কাপুরুষোচিত বিমান হামলা চালাচ্ছে ক্রুসেডার জোট।

হোয়াইট হেলমেট সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছেন, গতকাল ৫ মার্চ ইদলিব প্রদেশের মারাত মাসরিনে মর্মান্তিক বিমান হামলায় ১৬জন গৃহহীন মুসলিম শহীদ হয়েছেন ।যাদের মধ্যে ৫জন মহিলা ও ২জন শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ২০জন।

এদিকে গত ৪মার্চ টার্গেট করে সিরিয়ার ইদলিব ও আলেপ্পোসহ ২১টি এলাকায় ৫৯টি বিমান হামলা,১১০টি আর্টিলারি শেল ও ২৯টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ৭জন শিশসহ ১৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে , মারাত্মক আহত হয়েছে আরও ২১জন ‌।

উল্লেখ্য যে, সন্ত্রাসী রাশিয়া জোটের বিমান হামলায় চলতি বছর ২০২০ সালে এখন পর্যন্ত ২৫৬ জন মুসলিম শহীদ হয় এবং কয়েক লক্ষ মুসলিম গৃহহীন হয়ে ইউরোপ ও তুরস্কে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ইতোমধ্যে প্রচন্ড শীত ও তুষারপাতে শতাধিক অসহায় গৃহহীন মুসলিম মারা গিয়েছেন এবং প্রায় দশ মিলিয়ন মুসলিম ইদলিব থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

ইদলিবে ক্রুসেডার রাশিয়া-ইরান জোটের নির্বিচার বিমান হামলায় সংগঠিত গণহত্যাগুলো নিশ্চিত যুদ্ধাপরাধ, যা হিটলারের নাৎসি বাহিনীর বর্বরতাকেও হার মানায়।আর এ গণহত্যায় ব্যাপারে গোটাবিশ্ব নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে । এমনকি কেউ চোখের পলক পর্যন্ত নাড়ছে না। প্রকৃতপক্ষে, গোটা বিশ্ব যেন একচোখা দাজ্জালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এ এমন এক বিশ্ব যেখানে একচোখের মানুষ রাজা, ভণ্ডামিই নিয়ম আর বিবেকের মৃত্যু ঘটেছে ।

বর্তমানে ইদলিব হলো এক নিষ্ঠুর ট্র্যাজেডির নির্মম উপাখ্যান । যখন পৃথিবীর কোন একটি ইতর প্রাণীও যদি আক্রান্ত হয় তাহলে সকল কুফরি রাষ্ট্র দূর-দূরান্ত থেকে উদ্ধার করতে ছুটে আসে।অথচ ইদলিবে নির্মম গণহত্যার ব্যাপারে সবাই মুখে কুলুপ এঁটেছে । তারা আজ কোথায় ? যারা কথায় কথায় মানবাধিকারের দোহাই দিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলে । তথাকথিত মানবতাবাদীরা আজ “সিরিয়ার” নিপীড়িত জনগণকে পরিত্যাগ করেছে ।

ইদলিব প্রদেশটি মুসলমানদের শেষ দুর্গ । যেখানে কুখ্যাত নুসাইরি শিয়া বাশার আল আসাদ সরকার বিরোধী বিদ্রোহী ও মুজাহিদরা নিয়ন্ত্রণ করছে। সন্ত্রাসী মিলিশিয়ারা রাশিয়া ও ইরানের সহায়তায় মুসলিমদের সর্বশেষ ঘাঁটি ইদলিবের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক প্রয়াস চালাচ্ছে ।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন