এবার ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করল সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ

0
168

সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলায় সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন (৩০) গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে শিবগঞ্জ নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় হামলার ঘটনা ঘটে। ক্যাডাররা সশস্ত্র থাকায় ইসমাইলকে রক্ষায় কেউ এগিয়ে যেতে সাহস পায়নি। রিপোর্টঃ যুগান্তরের

এ সময় উপজেলা পরিষদের একটি সভা চলছিল। সভায় উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল। চিৎকার শুনে সভা থেকে বের হয়ে তিনিসহ অনেকেই ব্যবসায়ীকে রক্ষায় এগিয়ে যান কিন্তু তাদেরকেও ধাওয়া করে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। এমপি শিমুল বলেন, উপজেলা পরিষদের মতো সরকারি দফতরে একজন ব্যবসায়ীর ওপর এ ধরনের হামলা নিন্দনীয়।

হামলাকারীরা শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুসারী বলে জানা গেছে। এদিকে আহত ইসমাইল ফের হামলার ভয়ে রাজশাহী নগরীর একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হামলার আগে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ ক্যাডাররা এমপি শিমুলের প্রতিপক্ষ গ্রুপের নেতা শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার চেম্বারে সাক্ষাৎ করেন। উপজেলা চেয়ারম্যানও ঘটনার সময় পরিষদের সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বন্দরের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সোনামসজিদ স্থলবন্দরে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তারা সোমবার দুপুরে সোনামসজিদ স্থলবন্দর এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে ইসমাইলের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। এই পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য বন্দরের কাস্টমস এসি সাইফুর রহমানেরও অপসারণ দাবি করেছেন তারা।

হামলার ঘটনায় ইসমাইল বাদী হয়ে রোববার রাতে শিবগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেল (২৫), সাধারণ সম্পাদক আলী রাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াদ খানসহ ১৫ জনকে আসামি করে শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন। হামলাকারীদের অন্যতম পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াদ খান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম খান টুটুলের আপন ভাগ্নে বলে জানা গেছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বিষয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিয়ে রোববার দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের তিনতলায় এমপি শিমুলের উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা সভা চলছিল। এ সময় সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের ক্যাডাররা লোহার রড, চেইন, চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি, রামদা, বোমার ব্যাগ নিয়ে জয় বাংলা স্লোগান দিতে দিতে ভবনের তৃতীয় তলায় ওঠে।

সেখানে অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ইসমাইলকে পেয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করে। পেটাকে পেটাতে রক্তাক্ত করে তাকে ভবনের নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা করে। এ সময় এমপি শিমুলসহ উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মিটিং ছেড়ে ইসমাইলকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা তাদেরকেও ধাওয়া করে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন