ভারতীয় মালাউন সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতে করোনার দায় চাপানো হচ্ছে মুসলিমদের উপর

0
985
ভারতীয় মালাউন সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতে করোনার দায় চাপানো হচ্ছে মুসলিমদের উপর

অন্যান্য দেশে যখন রোগটি শিকড় গাড়ছিল, তখন শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক প্রকাশনাগুলো ভারতে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে বিজেপি নেতাদের নেতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরছিলো করছিল। তারা তখন মনগড়া ধর্মভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী ওষুধের ওপর ভর করে অবৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা (যোগ বা গোমূত্র পান) প্রয়োগের কথা বলছিলেন।

বোঝাই যাচ্ছে, সরকার তার বক্তব্য প্রচারে গোঁড়া, ভ্রান্ত ধর্মকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছিল।

অবশ্য ভারতে রোগটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার হুমকি সৃষ্টি এবং দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি ভয়াবহ অবস্থা ফুটে উঠার পর  ভারতীয় গেরুয়া সন্ত্রাসীরা মুসলিমদের ওপর গোঁড়ামিপূর্ণ ও বিদ্বেষপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করেছে।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষই কোভিড-১৯-এর সংক্রমণের জন্য একটি মুসলিম জামাতকে দায়ী করেছে। ওই গ্রুপটি মার্চের প্রথম দিকে দিল্লিতে একটি বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ একে ইসলামিক জিহাদী দল ‘তালেবানি’ হিসেবে অভিহিত করে।

ভুয়া ভিডিওতে ভ্রান্তভাবে দাবি করা হয় যে মিশনারি গ্রুপটির সদস্যরা পুলিশের ওপর থুতু ফেলছে, নার্সদের হয়রানি করছে। এসব ভিডিও ভাইরালও হয়। ভারত সরকার বেশ স্মার্টভাবে দিল্লিতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন চালানোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিন্দার বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করছে এর মাধ্যমে।

অথচ বিজেপি নেতা ও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিজে পর্যন্ত লকডাউন ভেঙে হিন্দুদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক লোক উপস্থিত হলেও তা কোনো খবরে পরিণত হয়নি।

#coronajihad নামের হ্যাশট্যাগটি তিন লাখের বেশিবার শেয়ার হয়েছে, সম্ভবত সাড়ে ১৬ কোটি লোক তা দেখেছে।

ডিজিটাল মানবাধিকার গ্রুপ ইকুইলিটি ল্যাবসের মতে, এ ধরনের পোস্টগুলোর একটি বড় অংশই টুইটারের নিয়ম লঙ্ঘন করে করা হচ্ছে। কিন্তু তবুও এগুলো সরানো হচ্ছে না। টুইটার স্পষ্টভাবেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে যুক্ত হচ্ছে। অবশ্য কাশ্মির ও ভারতের অন্যান্য কিছু ঘটনা বিবেচনা করলে একে নজিরবিহীন মনে হবে না।

অথচ বাস্তবে ভারতে হাজার হাজার অভিবাসী শ্রমিক আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে লকডাউনের কারণে। তাদের হাতে টাকা নেই, লঙ্গরখানার খাবারের ওপর ভরসা করে থাকবে, সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তাদের অনেকে শত শত মাইল হেঁটে গ্রামের দিকে যাচ্ছে খাদ্য ও থাকার নিশ্চিয়তার জন্য।

সরকারি সহায়তার জন্য অপেক্ষা করছে কোটি কোটি চাকরিহীন লোক। তারা এখন ক্ষুধার আশঙ্কায় ভুগছে। কিন্তু সরকারি সহায়তার আশ্বাস এখনো পূরণ হয়নি।

এমনিভাবে, চীনে করোনার তাণ্ডব শুরু হওয়ার কয়েক মাস পরে ভারতে তার প্রকোপ শুরু হয়েছে। ফলে প্রস্তুতির যথেষ্ট সময় পাওয়া গিয়েছিল। তখন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিলো কি? হলে তো এত অপ্রস্তুত, এতটা সহায় সম্বলহীন অবস্থায় থাকতে হতো না। এই রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে চিকিৎসকদের যে সুরক্ষা পোশাক পরা দরকার, তার নাম পিপিই। সেই পোশাক আবার প্রতি ছয় ঘন্টায় একবার করে জীবাণুশূন্য করা দরকার। ভারতে সরকারি চিকিৎসকদের হাতে পিপিই দেওয়া হয়নি।

এদিকে, লকডাউনের বিধিনিষেধ অমান্যকারী লোকদের প্রহার করা হচ্ছে, নির্যাতন করা হচ্ছে। অথচ সামাজিক মিডিয়ায় হতাশাজনকভাবে প্রকাশ পাচ্ছে যে সরকারি কর্মকর্তাদের পরিবার সদস্যরা বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর স্বাধীনতা ভোগ করছে।

আর অপরিকল্পিত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সত্ত্বেও ভারতে করোনাভাইরাস রোগীর দিক থেকে এই অঞ্চলে শীর্ষ স্থানে রয়েছে।

তাই সরকারি ব্যর্থতা আড়াল করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপর দায়ভার চাপিয়ে দেয়া।

সূত্র:

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন