বাংলাদেশকে পাশে পেতে ভারতের সাহায্য চায় যুক্তরাষ্ট্র

1
627
বাংলাদেশকে পাশে পেতে ভারতের সাহায্য চায় যুক্তরাষ্ট্র

দক্ষিণ এশিয়ার দুটি বড় দেশ ভারত ও পাকিস্তান যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে জোট গড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তার ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলকে শক্তিশালী করার জন্য এখন বাংলাদেশকে পাশে পেতে চায়।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর এক ভার্চুয়াল বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশ বিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি কেইথ ক্রাচ আমেরিকান কোম্পানিগুলোর প্রতি বাংলাদেশের জ্বালানি, আইটি, ওষুধ ও কৃষিখাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। এটা ছিলো দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক এযাবতকালে প্রথম উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা।

ওয়াশিংটনের ওপেন স্কাই নীতির আওতায় একই দিন বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি বিমান চলাচলের একটি চুক্তিও করে ওয়াশিংটন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই চুক্তি আমাদের মজবুত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতাকে আরো সম্প্রসারিত করবে, দুই দেশের জনগণের পর্যায়ে সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে এবং বিমান সংস্থা, পর্যটন কোম্পানি ও ক্রেতাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট সিটিফেন বিগান ১৪ অক্টোবর থেকে ঢাকায় তিন দিনের সফর করছেন।

ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে ডেপুটি সেক্রেটারির আলোচনায় একটি অবাধ, উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ইন্দো-প্যাসিফিক গড়তে আমাদের অভিন্ন ভিশনকে এগিয়ে নেয়া, কোভিড মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সহযোগিতা ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো স্থান পাবে।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপোড়ন তৈরি হওয়ায় দুই দেশই বাংলাদেশের মন জয় করতে চাচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে একটি বিমানবন্দর টার্মিনালের উন্নয়নের জন্য ২৫০ মিলিয়ন ডলারের কাজ পেয়েছে বেইজিং। অন্যদিকে, বেইজিং বাংলাদেশ ৯৭% রফতানি পণ্যে শুল্ক রেয়াত দিয়েছে।

বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের (বিআরআই) আওতায় বাংলাদেশের ২৭টি প্রকল্পে ২০ বিলিয়ন ডলার ঋণ দানের অঙ্গীকার করেছে বেইজিং।

তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বরের আলোচনায় নেতৃত্বাদানকারী বাংলাদেশের কর্মকর্তা রহমান। তিনি চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘চমৎকার’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমাদের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত হচ্ছে এবং আমরা অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করছি।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সেক্রেটারি বিগান নয়াদিল্লীকে বলেছেন যে, প্রতিবেশী দেশগুলোকে নিয়ে ভারতের সঙ্গে আরো আলোচনা করবে ওয়াশিংটন। ঢাকার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও আলোচনা করবেন তিনি। সাউথ এশিয়ান মনিটর

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন