অভিশপ্ত ইসরাইল কর্তৃক ১৩০ জন ফিলিস্তিনি নারীকে গ্রেফতার

2
800
অভিশপ্ত ইসরাইল কর্তৃক ১৩০ জন ফিলিস্তিনি নারীকে গ্রেফতার

অভিশপ্ত ইসরাইল চলতি বছরের গত সাত মাসে ১৩০ জন ফিলিস্তিনি নারীকে আটক করেছে। সন্ত্রাসী ইসরাইলের কারাগারে বন্দী কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি বছরের গত সাত মাসে অভিশপ্ত ইহুদী সৈন্যরা অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের ১৩০ জন মুসলিম নারীকে জোড়পূর্বক কারাগারে বন্দী করেছে, যাদের অধিকাংশকেই রাজধানী জেরুজালেম থেকে আটক করা হয়।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয় দখলদার ইসরাইল ফিলিস্তিনি নারী গ্রেফতারে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে সাম্প্রতিক বছরের নতুন রেকর্ড গড়েছে।

গত ২০২০ সালে সন্ত্রাসী ইসরাইল সর্বোচ্চ ১২৮ জন ফিলিস্তিনি নারীকে গ্রেফতার করেছিল।

কারাবন্দী কমিটি জানায়, দখলদার ইসরাইল ফিলিস্তিনি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে গণহারে মুসলিমদের উপর ব্যপকভাবে গ্রেফতার- নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।

ফিলিস্তিন ভিত্তিক প্রত্যক্ষদর্শী ওয়াচডগ জানায়, ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর থেকে ফিলিস্তিনের নাবালিকা মেয়ে, ছাত্রী, দুগ্ধপানকারী শিশুর মা, গর্ভবতী মহিলা, আহত ও অসুস্থ নারীসহ প্রায় ১৭ হাজারেরও অধিক ফিলিস্তিনি নারীকে দখলদার ইসরাইল অন্যায়ভাবে আটক করেছে।

ওয়াচডগ আরো জানায়, মজলুম ফিলিস্তিনিদের থেকে সন্ত্রাসী ইসরাইল মনগড়া স্বীকারোক্তি আদায় করতে, বন্দীদের হুমকিধামকি প্রদানের পাশাপাশি আটককৃত ব্যক্তির পরিবারের আরো সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়। তাছাড়াও জিজ্ঞাসাবাদের নামে কারাবন্দীদের উপর চালানো হয় কঠোর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

ওয়াচডগ মতে, বর্তমানে ইসরাইলি কারাগারে ১১ জন মা সহ ৪০ জন ফিলিস্তিনি নারী মানবেত জীবনযাপন করছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত মার্চ মাসে গ্রেফতার হওয়া সন্তানসম্ভবা আনহার আল দিক ইসরাইলি কারাগারের অন্ধ কুঠুরিতে সন্তান ভূমিষ্ঠের প্রহর গুনছেন। তাছাড়াও আরেক ফিলিস্তিনি নারী ইসরাইলি কারাগারের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই সন্তান প্রসব করেছেন।

কারাবন্দী কমিটি জানায়, ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনি জাকিয়া শামমৌত ১৯৭১ সালে সর্বপ্রথম ও ২০০৯ সালে গাজার অধিবাসী ফাতিমা রিস্ক সর্বশেষ কারা অভ্যন্তরে সন্তান প্রসব করেন।

কারাবন্দী কমিটি আরো জানায়, পরিবার-পরিজন থেকে দূরে চিকিৎসাহীন অবস্থায় ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনি নারীদের ইহুদি কারারক্ষীদের সামনে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় সন্তান প্রসব করতে হয়।

তথাকথিত বৈশ্বিক নারীবাদী সংগঠন কিংবা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে বর্তমান সময়ে ইমারতে ইসলামিয়ার তালিবান মুজাহিদদের বিরুদ্ধে নারী অধিকার নিয়ে কথা বলতে দেখা গেলেও, দেখা যায় নি মুসলিমদের ক্ষেত্রে, যেমনিভাবে তাদেরকে কখনো দেখা যায় নি ফিলিস্তিনি নারী অধিকারের পক্ষে কাজ করতে।

2 মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন