সিরিয়ান জিহাদে নতুন সম্ভাবনা

ত্বহা আলী আদনান

7
600

সিরিয়ায় কট্টরপন্থী শিয়া মিলিশিয়াদের একটি সামরিক অবস্থানে ঢুকে অপারেশন পরিচালনা করছেন আল-কায়দা সংশ্লিষ্ট মুজাহিদগণ। এতে শত্রুবাহিনীর ৫ কমান্ডারসহ অন্তত ৮ মিলিশিয়া নিহত হয়েছে।

দীর্ঘ কয়েক বছর পর মুজাহিদদের এমন বীরত্বপূর্ণ অভিযান প্রত্যক্ষ করেছে সিরিয়ার মুসলিমগণ। স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, অভিযানটি গত ৮ এপ্রিল লাতাকিয়া অঞ্চলের তুর্কমেন পর্বতের কাছে চালানো হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্যমতে, এই অভিযানের সময় আবু কাতাদাহ নামে একজন মুজাহিদও শাহাদাত বরণ করেছেন। তাঁর শাহাদাতকে ঘিরেই এক রহস্য তৈরি হয়েছে।

ইনশাআল্লাহ, শহীদ আবু কাতাদাহ (রহি.)

কেননা শহীদ আবু কাতাদাহ আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট তানযিম হুররাস আদ-দ্বীনের সাথে যুক্ত একজন মুজাহিদ। অপরদিকে আনসার আল-ইসলাম এক বিবৃতিতে এই অপারেশন পরিচালনা করার দাবি করেছে। এতে বিভিন্ন সম্ভাবনার কথা ভাবছেন বিশ্লেষকগণ। কেউ প্রশ্ন করছেন, অপারেশনটি আসলেই আনসার আল-ইসলাম পরিচালনা করেছে নাকি হুররাস আদ-দ্বীন পরিচালনা করেছে। কেউ আবার মনে করছেন, এটি তাদের একটি যৌথ অপারেশন।

আনসার আল-ইসলাম কর্তৃক প্রকাশিত শত্রু অবস্থান

২০২০ সালে আনসার আল-ইসলাম সিরিয়ায় আল-কায়েদা শাখা তানযিম হুররাস আদ-দ্বীনের সাথে মিলে একত্রে কাজ শুরু করে। এসময় তানযিম হুররাস আদ-দ্বীনকে নিষ্ক্রিয় করতে উঠে পড়ে লাগে তাহরিরুশ-শাম (এইচটিএস)। সেই ধারাবাহিকতায় আনসার আল-ইসলামের উপরও ক্র্যাকডাউন চালিয়ে তাদের নেতা ও কমান্ডারদেরকে বন্দী করেছিল এইচটিএস।

এমন পরিস্থিতিতে আনসার আল-ইসলাম, এইচটিএস এর সাথে চুক্তি করতে বাধ্য হয়। এই চুক্তির মধ্যে অন্যতম ছিলো- আল-কায়েদার সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে, এইচটিএস এর অনুমতি ছাড়া বড় কোনো অপারেশন করা যাবে না এবং মুক্ত অঞ্চলের বাহিরে গিয়ে আক্রমণ করা যাবে না।

এসব শর্তের বেড়াজালে আটকে যাওয়ায় গত প্রায় ৩ বছর যাবৎ মুক্ত অঞ্চলের বাহিরে কোনো অপারেশন পরিচালনা করেনি আনসার আল-ইসলাম। এই দীর্ঘ সময়টাতে তাঁরা সরাসরি আক্রমণ করা থেকেও বিরত থাকেন; শুধুমাত্র আর্টিলারি, মর্টার এবং স্নাইপার হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন।

কিন্তু লাতাকিয়ায় সাম্প্রতি মুক্ত অঞ্চলের বাহিরে গিয়ে শত্রু শিবিরের ভিতরে ঢুকে কমান্ডো অপারেশন পরিচালনা করেছে আনসার আল-ইসলাম। আর এই অপারেশনে শহীদ হয়েছেন আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট হুররাস আদ-দ্বীনের একজন মুজাহিদ। একারণেই মূলত এই অপারেশনটি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ইদলিবে এইচটিএস কর্তৃক ব্যাপক ধরপাকড় ও জুলুমের ফলে হুররাস আন-দিন ইদলিব থেকে আলেপ্পো, দেইর ইজ-জোর, দামেস্ক ও দ্বীরায় চলে যেতে বাধ্য হয়। আর কিছু সংখ্যক মুজাহিদ বিভক্ত হয়ে আল-কায়েদা সমর্থিত কয়েকটি গ্রুপে ঢুকে গেছে। ফলে দীর্ঘ এই সময়টাতে তানযিম হুররাস আদ-দ্বীনকে ৩টি অপারেশন ও ৬টি বিবৃতি ছাড়া কোনো সামরিক অভিযানের দাবি করতে দেখা যায়নি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আল-কায়েদা সিরিয়ায় নিজেদেরকে গুছিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। আর এ কারণেই মুক্ত অঞ্চলের আল-কায়েদা সমর্থিত জিহাদী গ্রুপগুলো পুনরায় নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করছে।

7 মন্তব্যসমূহ

  1. আমরা যারা জিহাদী পথে নবীন, আমাদের জন্য শামের জিহাদ বুঝাটা কঠিন, তাই মিডিয়ার ভাইদের নিকট অবেদন রইলোঃ সব সময় যেন শামের বিষয়ে এমন বিসলেশনী প্রতিবেদন পেশ করে। আল্লাহ আমাদের শামের ভাইদের বিজয়ের ধারা অব্যাহত রাখুন

  2. আলহামদুলিল্লাহ,, সামের ভাইদের কাজগুলো কবুল করুন আমিন।
    আসলে সাম মুসলিমদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। সামকে হাত ছাড়া করা মানে হচ্ছে অর্ধেক হেরে যাওয়া। আর সামের ভাইদের কাজগুলো নিয়ে প্রচার করে এমন এমন ওয়েব সাইটের সন্ধান দেওয়া জরুরি।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিজয়ের মাস; মাহে রামাদানের গৌরবদীপ্ত বিজয়-সিরিজ || পর্ব-১০ || ২২৩ হিজরীর ১৭ রমাদান, বাইজান্টাইনের সর্বাধিক সুরক্ষিত ও অজেয়-খ্যাত আম্মুরিয়া শহর বিজয়। (দ্বিতীয় কিস্তি)
পরবর্তী নিবন্ধভারতে মব লিঞ্চিং: মুসলিম নিধনের ‘বৈধ’ হাতিয়ার