ভারতে দুই হিন্দুত্ববাদীর মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য ভাইরাল

0
211
সুবিধামত ফন্ট ছোট বড় করুনঃ

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের হিন্দুত্ববাদী নেতা ও ধর্মগুরুরা ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য প্রদান বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ভারতজুড়ে ইসলামবিরোধী ও কট্টর হিন্দুত্ববাদী আবহ তৈরির কাজ জোর দিয়েই শুরু করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক হিন্দু নেতাদের উগ্রবাদী বক্তব্য-বিবৃতি প্রকাশ হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে ভাইরাল হওয়া এমনই একটি ভিডিওতে ইসলাম এবং খ্রিস্টান ধর্মের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য দিতে দেখা গেছে হিন্দু ধর্মগুরু স্বামী সচ্চিদানন্দ মহারাজকে। নিজ বক্তব্যে সে মুসলিম ও খ্রিস্টানদেরকে “হিন্দু ধর্মের শীর্ষ শত্রু” বলে অভিহিত করেছে।
উত্তর প্রদেশের নয়ডায় অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে তার বক্তৃতায় এই উগ্র সাধু মুসলমানদেরকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বয়কটের আহ্বানও জানায়।

স্বামী সচ্চিদানন্দ বলেছে, “আমি আপনাদের সকলের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, বিধর্মীদেরকে কখনোই আপনার ব্যবসায় সম্পৃক্ত করবেন না, বা তাদের আপনার বাড়িতে ঢুকতে দেবেন না, এবং তাদের কাছে আপনার দোকান বা বাড়ি ভাড়া দেবেন না।…তোমার চার শত্রু আছে। প্রথম ইসলাম, দ্বিতীয় – খ্রিস্টান, তৃতীয় – বামপন্থী মতাদর্শ এবং সবশেষে কমিউনিস্ট। এরা আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু।”

হিন্দুদের এই কথিত সন্ন্যাসী আরো বলেছে, যদি আপনার মেয়েদের বন্ধু তালিকায় একটিও মুসলিম মেয়ে থাকে, তবে জেনে রাখুন যে আপনার বাড়িটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। কারণ মুসলিম মেয়েরা অন্য ধর্মের লোকেদের সাথে বন্ধুত্বের নামে মুসলিম ছেলেদের সাথে মিলিয়ে দেয়। যা তাদের’লাভ জিহাদের’ অংশ হিসেবে করে থাকে। আপনার সন্তানদের সতর্ক করুন এবং সাবধান করুন, শুধুমাত্র একজন হিন্দুর সাথে বন্ধুত্ব করুন।

ফাস্ট ফুডের অনলাইন ডেলিভারি পরিষেবাগুলিকে “খাদ্য জিহাদ” বলে অভিহিত করে সে বলেছে, “…এর অর্থ খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে জনসংখ্যার (হিন্দুদের) নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।…আমরা হিন্দুরা এতটাই বোকা হয়ে গেছি যে আমরা এগিয়ে গিয়ে কবর খুঁড়ছি। আমাদের মেরে ফেলার জন্য তাদের বেশি চেষ্টা করতে হবে না।”

সে আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত প্রচারণামূলক চলচ্চিত্র দ্য কেরালা স্টোরি-এর কথা উল্লেখ আরও বলেছে, নারীদের “ষড়যন্ত্র থেকে সাবধান” থাকতে হবে। “আমাদের ৩২,০০০ মেয়ে বিধর্মীদের কাছে গেছে। এটি একটি ছোট সংখ্যা নয়। এই কেরালার গল্পটি কেবল কেরালায় ঘটেনি, বরং এটি আমাদের নিজস্ব গুরগাঁও এবং নয়ডায় নির্বিচারে ঘটছে।” এ ছবি আপনারা দেখুন এবং নিশ্চিত করুন যে আপনার মেয়েরাও দেখেছে।

ভিডিওটিতে মুসলিমভীতি ছড়ানোর জন্য সে বলেছে, “মনে রেখো! এখনি সাবধান হতে হবে। আপনার মেয়েদের বুঝান। তাদের জানিয়ে দিন যে লাভ জিহাদ চরম সীমায় চলছে। আপনাদের সন্তানদের বাঁচান, না হলে আপনি রক্ষা পাবেন না।”

এর আগে মুসলিম এবং অন্যান্য ধর্মের লোকদের স্বেচ্ছায় হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে সমস্ত ‘বিতর্কিত’ ধর্মীয় স্থান হস্তান্তর করা উচিত বলে মন্তব্য করেছে সিনিয়র আরএসএস নেতা ইন্দ্রেশ কুমার।

পিটিআই-এর সাথে এক সাক্ষাত্কারে সে বলেছে যে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত খুব স্পষ্টভাবে বলেছে “প্রতিটি মসজিদে শিবলিঙ্গ খুঁজে পাওয়ার দরকার নেই।… ভাগবতের বক্তব্যের উদ্দেশ্য হলো বিতর্কিত মুসলিমদের ঐতিহাসিক স্থানগুলো স্বেচ্ছায় হিন্দুদের কাছে হস্তান্তর করা উচিত।”

আরএসএস-এর জাতীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এই ইন্দ্রেশ কুমার আরো বলেছে, ‘সনাতন’-এর অনুসারীদের মন্দিরগুলি বিদেশী আক্রমণকারীরা ভেঙে দিয়েছিল। তাই খোঁজ করার দরকার নেই।

সে আরো বলেছে,”মুসলিম এবং অন্যান্য ধর্মের লোকদের এগিয়ে আসা উচিত এবং হিন্দুদের বিতর্কিত ধর্মীয় স্থানগুলি হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে হস্তান্তর করা উচিত।”

উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই হিন্দুরা মুসলিমদের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে দিয়ে রাম মন্দির নির্মাণ করছে। অন্যান্য ঐতিহাসিক মসজিদগুলোকে নিয়েও তারা বিতর্ক তৈরি করছে। এভাবে তারা সকল মসজিদগুলোকেই মন্দিরে রুপান্তর করার চক্রান্তে নেমেছে।



 

তথ্যসূত্র:

1. Islam And Christianity Top Enemies of Hinduism: Swami Sachchidanand in Noida
http://tinyurl.com/5n6fp3c9
2. video link:
http://tinyurl.com/4cbtwsfw
3. RSS leader asks Muslims to voluntarily hand over all disputed sites to Hindus
http://tinyurl.com/2tf68zye

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধচকলেট দিয়ে শিশুদের ধর্মান্তরকরণের চেষ্টার অভিযোগে মুসলিম শিক্ষককে হেনস্থা!
পরবর্তী নিবন্ধবিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ করছে আফগানিস্তান