
পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দক্ষিণ আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী কান্দাহারে দেশীয় পণ্যের চাহিদা ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও সম্প্রসারিত হয়েছে, যা দেশীয় অর্থনীতিকে নতুন গতি দিচ্ছে।
কান্দাহারের একটি স্থানীয় মসলা উৎপাদনকারী কারখানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তাদের দৈনিক উৎপাদন এক টন থেকে বেড়ে ছয় টনে পৌঁছেছে। কারখানাটির পরিচালক কারিমুল্লাহ হাকিমি জানান, এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় দশ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে বিশ জনের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এই কারখানার উৎপাদিত পণ্য ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের চৌত্রিশটি প্রদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, তারা প্রাকৃতিক ভেষজ ও মসলা প্রক্রিয়াজাত করে মানসম্মত প্যাকেটজাত আকারে বাজারে সরবরাহ করছেন। কর্মী নাজির আহমদ বলেন, এখানে সব ধরনের মসলা উৎপাদন করা হয়, যা সম্পূর্ণ খাঁটি ও শতভাগ প্রাকৃতিক। এই বিনিয়োগের ফলে বহু যুবক কাজের সুযোগ পেয়েছেন।
এদিকে কান্দাহার চেম্বার অব মাইনস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ হওয়ার পর প্রদেশটির শিল্পপার্কে উৎপাদন বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেশীয় পণ্যের প্রতি আগ্রহ স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চেম্বারটির প্রধান সাইয়্যেদ সরওয়ার আমানি বলেন, সীমান্ত বন্ধের পর উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি মানুষের মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে; তারা এখন স্থানীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
পাকিস্তান থেকে আমদানি কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে কান্দাহার ক্রমেই নিজের প্রয়োজন দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছে। স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর এই অগ্রগতি একদিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে তেমনি ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রযাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র:
1. Kandahar Factory Boosts Output After Halt in Pakistan Trade
– https://tinyurl.com/yahkhv4h


