
গ্রেপ্তার ও জোরপূর্বক নির্বাসন পাকিস্তানে অবস্থানরত আফগান শরণার্থীদের জীবন ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, বিশেষত নারী, শিশু ও অসুস্থদের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সম্প্রতি জরুরি চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা (MSF) পাকিস্তানে অবস্থানরত আফগান শরণার্থীদের করুণ অবস্থা তুলে ধরেছে।
সাম্প্রতিক একটি মর্মান্তিক ঘটনা বর্ণনা করে সংস্থাটি জানায়, গত নভেম্বর মাসে শীতের রাতে এক আফগান শরণার্থী দম্পতি পাকিস্তানি এক রিকশা চালকের দরজায় কড়া নাড়েন। এই সময় আফগান মহিলাটি প্রসব বেদনায় ভুগছিলেন। অর্থ না থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানি রিকশা চালক এই দম্পতিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে রাজি হয়। এদিকে শরণার্থী শিবির থেকে বাইরে অবস্থান করায় তারা পুলিশের গ্রেপ্তারের ভয়ে আতঙ্কিত ছিলেন।
তবে রিকশায় অবস্থানকালীন উক্ত নারী সন্তানের জন্ম দেন। সেই সময়ের করুণ পরিস্থিতি বর্ণনা করে রিকশা চালক বলেন, তার রিকশা রক্তে ভরে গিয়েছিল, এই কষ্টকর মুহূর্তটি ভাষায় বর্ণনা করার মত নয়। পরবর্তীতে এমএসএফ দাতব্য সংস্থার কর্মীরা এই মা ও শিশুর যত্নের দায়িত্ব নেন।
কর্মীদের অভিযোগ, আফগান শরণার্থীগণ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা লাভের ক্ষেত্রে গুরুতর বাধার মুখোমুখি হচ্ছেন। শরণার্থী শিবিরে এই ধরনের গর্ভপাতের ঘটনা ক্রমশ সাধারণ হয়ে উঠছে।
তাদের মতে, গণ নির্বাসন একটি বিপর্যয়কর মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার আফগান শরণার্থীকে অস্থায়ী শিবিরে আটকে রাখা হয়েছে। এই সকল শিবিরে আবাসন, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা পর্যাপ্ত নয় বা একেবারেই নেই। একদিকে শীতে তাপমাত্রা তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে, অপরদিকে গ্রেপ্তারের ভয় অনেককে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে বাধা দিচ্ছে। এর যার ফলে গর্ভপাত, চিকিৎসা না পেয়ে অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এমএসএফ কর্মীরা আরও কিছু মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শীতের রাতে চিকিৎসা না পেয়ে ৫ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু। এছাড়া চিকিৎসার অভাবে এক মৃত শিশু প্রসবের পর এক শরণার্থী মহিলার মৃত্যু। পরবর্তীতে এই মৃতদেহ আফগানিস্তানে তার নিজ পরিবারের নিকট স্থানান্তর করা হয়।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/4zvv4z9f


