
ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা জেলায় পাপ্পু আনসারি নামে এক মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী জনতা। নিহত এই মুসলিম ব্যক্তির বয়স প্রায় ৪০ বছর। নিহতের পরিবারের দাবি, কেবল মুসলিম পরিচয়ের কারণে তাকে টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের ভাই মুহাম্মদ নাসিম অভিযোগ করে বলেন, তার ভাইকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা হয়েছে। উগ্র জনতা প্যান্ট খুলে তার মুসলিম পরিচয় শনাক্ত করে। তাকে লাঠি, তীর, চিসেলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম দ্বারা আঘাত করা হয়েছে। যখন তাকে হত্যা করা হচ্ছিল তখন উগ্র জনতা একে অপরকে এই বলে উৎসাহিত করতে থাকে যে, সে একজন মুসলিম, তাকে হত্যা কর।
মুহাম্মদ নাসিম আক্ষেপ করে বলেন, মুসলমান হওয়া কি অপরাধ ? এই দেশে এটা কেমন ন্যায়বিচার ?
গত ৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে গোড্ডা জেলার মতিহানি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ৮ জানুয়ারি গ্রামের এক মাঠ থেকে ভুক্তভোগীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
অপরদিকে হিন্দুত্ববাদী ভারত প্রশাসনের পুলিশ দাবি করছে, গরু চুরি সন্দেহে পাপ্পু আনসারিকে স্থানীয় জনতা ধরে ফেলে এবং তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।
পুলিশের প্রমাণবিহীন এই দাবিকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। তাদের জোরালো দাবি, ধর্মীয় বিদ্বেষের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। প্রশাসনের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন নিহতের পরিবার।
নিহতের ভাই আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ব্যাপারে কোনও বিধায়ক, সাংসদ বা কর্মকর্তা আমাদের কাছে আসে নি। অথচ আমার ভাইকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। খুনিদের কঠোর শাস্তির জন্য তিনি প্রশাসনের নিকট দাবি জানান।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/2s3wb8a5


