
মুসলিম ব্রাদারহুডের লেবানিজ, মিশরীয় ও জর্ডানীয় শাখাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ১৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম ব্রাদারহুডের এসব শাখা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের গণতান্ত্রিক ও বৈধ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে উপস্থাপন করলেও বাস্তবে তারা হামাসসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন করে আসছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের স্বার্থবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগকে এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের মতে, মুসলিম ব্রাদারহুডের কার্যক্রম কেবল মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাই নষ্ট করছে না, বরং তা সরাসরি মার্কিন নাগরিক ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি সৃষ্টি করছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, ‘আজ আমরা মুসলিম ব্রাদারহুডের লেবানিজ, মিশরীয় এবং জর্ডানীয় শাখাগুলিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করছি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র এমন সব গোষ্ঠীর সক্ষমতা ও কার্যক্রম নির্মূল করবে, যা মার্কিন নাগরিক এবং আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।’
উল্লেখ্য যে, ১৯২৮ সালে মিশরে শহীদ ইমাম হাসান আল-বান্না (হাফিযাহুল্লাহ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মুসলিম ব্রাদারহুডের মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বিভিন্ন শাখা এবং শাখা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সংগঠন।
মিশরীয় মুসলিম ব্রাদারহুড ২০১২ সালে দেশটিতে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়লাভ করে। কিন্তু এক বছর পর সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ মুরসিকে উৎখাত করা হয় এবং ২০১৯ সালে তিনি কারাগারে শহীদ হন।
জর্ডানে মুসলিম ব্রাদারহুড শাখার নাম ‘ইসলামিক অ্যাকশন ফ্রন্ট’। জর্ডানে এই দলটি ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৩১টি আসন বিজয় অর্জন করে। এছাড়া লেবাননের মুসলিম ব্রাদারহুড শাখার নাম ‘আল-জামাআল-ইসলামিয়া, লেবাননের সংসদে এ দলের প্রতিনিধি রয়েছে।
তথ্যসূত্র:
১। Today, we are designating the Lebanese, Egyptian, and Jordanian chapters of the Muslim Brotherhood as terrorist groups
– https://tinyurl.com/369vb4ht


