
বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (UAPA) এর অধীনে গত কয়েক বছরে ভারতজুড়ে হাজার হাজার নিরপরাধ নাগরিক গ্রেপ্তার করেছে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তারের ঘটনা হয়েছে ভারতের অবৈধ অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর অঞ্চলে। সম্প্রতি হিন্দুত্ববাদী ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যানে এই তথ্যগুলো স্পষ্ট হয়েছে।
সরকারি তথ্যানুসারে, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতের ২৮টি রাজ্যে UAPA আইনের অধীনে মোট ৫৬৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এরমধ্যে মাত্র ২৮৮ জন (প্রায় পাঁচ শতাংশ) তাদের দৃষ্টিকোণে অপরাধী প্রমাণ করতে পেরেছে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন। এছাড়া ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে অঞ্চলে উক্ত আইনের অধীনে মোট ৩,৬৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে কেবল ২৩ জন বা ০.৬২ শতাংশ ব্যক্তিকে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন দোষী সাব্যস্ত করতে পেরেছে।
এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে, নাগরিকদের এই ধরনের গ্রেপ্তার হিন্দুত্ববাদী প্রশাসনের দমন-পীড়নের একটি হাতিয়ার মাত্র। নাগরিকদের দমন করতেই উক্ত আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে। কোন প্রকার প্রমাণ ছাড়াই অসংখ্য নাগরিক বিশেষত মুসলিমদের দীর্ঘ সময় ধরে আটক রাখা হচ্ছে। তবে গ্রেপ্তারের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসেবের তুলনায় অনেক বেশি বলে মনে করছে আইনি পর্যবেক্ষকরা।
২০১৯ সালের আগস্টে সংবিধান থেকে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর অঞ্চলটি হিন্দুত্ববাদী ভারতের একটি অবৈধ দখলকৃত রাজ্যে পরিণত হয়। এরপর থেকেই উক্ত অঞ্চলে তথাকথিত বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের আওতায় নিরপরাধ ব্যক্তি গ্রেপ্তারের ঘটনা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান হিসেবে, জম্মু-কাশ্মীরে ২০১৯ সালে ২২৭ জন, ২০২০ সালে ৩৪৬ জন, ২০২১ সালে ৬৪৫ জন, ২০২২ সালে ১২৩৮ জন এবং ২০২৩ সালে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ছিল ১২০৬ জন। এর মধ্যে ২০১৯ ও ২০২১ সালে কেউ দোষী প্রমাণিত হয় নি, আর ২০২০ সালে ২ জন, ২০২২ সালে ১১ জন এবং ২০২৩ সালে কেবল ১০ জনকে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন অপরাধী প্রমাণ করতে পেরেছে।
২০২৩ সালে দেশব্যাপী গ্রেপ্তার হওয়া ১৬৮৬ জনের মধ্যে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সংখ্যা মাত্র ৮৪ বা ৪.৯৮ শতাংশ। এছাড়া ২০২৩ সালে পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, আসাম, মণিপুর ও মেঘালয়ে যথাক্রমে ৫০, ১১২৩, ১৫৪, ১৩০ ও ৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরমধ্যে পাঞ্জাব, মণিপুর ও মেঘালয়ে কেউ দোষী সাব্যস্ত হয় নি। উত্তর প্রদেশ ও আসামে যথাক্রমে ৭৫ ও ১ জন দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের অপরাধী প্রমাণিত হওয়ার হার খুবই কম। এ থেকে বোঝা যায় যে, ভারতে আইনের শাসন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সুষ্ঠু বিচার পরিত্যাগ করেছে, কেবল ভিন্নমত দমনকে অধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/mrysc4fs


