আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে তালিবান মডেলের প্রশিক্ষণ শিবির প্রতিলিপি করছে আল-কায়েদা

1
29

আল-কায়েদা পশ্চিম আফ্রিকা শাখা জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) সাহেল অঞ্চলে নিজেদের সামরিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলছে। সম্প্রতি দলটির প্রকাশিত বেশ কিছু ফটো রিপোর্ট থেকে এমনটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি, মালির কোনো একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে ‘জেএনআইএম’ একটি সামরিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের ফটো রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এতে জেএনআইএম যোদ্ধাদেরকে সম্পূর্ণ সজ্জিত অবস্থায় দুটি ইউনিটে দেখা গেছে। কমান্ডার আব্দুল হক নামক একটি সুসংগঠিত বিশাল প্রশিক্ষণ শিবিরে সামরিক ও মার্শাল আর্টের স্মার্ট ইউনিফর্মে জেএনআইএম যোদ্ধারা ভারী অস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় উপস্থিত হয়েছে।

ক্যাম্পে উপস্থিত যোদ্ধাদেরকে বিভিন্ন ধরনের সামরিক ও শারিরীক প্রশিক্ষণ নিতে দেখা গেছে। এসকল প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে শরীর চর্চা, মার্শাল আর্ট, তরবারি চালানো, শত্রুর অতর্কিত আক্রমণ প্রতিহত করা, সামরিক অবস্থানে আকস্মিক আক্রমণ চালানো, নির্ধারিত অবস্থানকে মর্টার শেল ও রকেট লঞ্চার দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা এবং সফলতার সাথে ভারী ও মাঝারি অস্ত্র চালানো।

আয-যাল্লাকা মিডিয়া কর্তৃক এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এটিই ছিলো প্রথমবারের মতো জেএনআইএম এর কোন প্রশিক্ষণ শিবির, যেখানে সামরিক ক্যাম্প থেকে শুরু করে যোদ্ধারও ছিলো সম্পূর্ণ সামরিক পোশাক ও ভারী অস্ত্রে সজ্জিত, এছাড়াও ক্যাম্পটিতে ছিলো সর্বোচ্চ সংখ্যক নতুন যোদ্ধার উপস্থিতি, যাদের গতিবিধি ছিলো সমন্বিত, যেন তারা নিয়মিত সামরিক বাহিনীর কোড অনুকরণ করছেন।

এই চিত্রগুলো এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, জেএনআইএম মুজাহিদিনরা আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে তালিবান মুজাহিদদের মডেল প্রতিলিপি করছেন। আর এমন দৃশ্যগুলো নিশ্চিত করে যে, জেএনআইএম এখন একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে এবং বিশাল অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। দলটি এখন আর কেবল বিক্ষিপ্ত সেল হিসেবে কাজ করছে না বরং একটি প্রশাসনিক কাঠামোতে কাজ করছে। ফলে দেখা যাচ্ছে জেএনআইএম এর হামলায়, মালি ও বুরকিনা ফাসোর জান্তা প্রশাসন স্থলভাগে তাদের ব্যর্থতা এবং সম্পদ হ্রাসের পর, দেশ দুটির সেনাবাহিনী মুজাহিদদের ট্র্যাক করার জন্য ড্রোন আমদানির দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু এক্ষেত্রেও জেএনআইএম ইতিমধ্যে সক্ষমতা অর্জন করেছে, মুজাহিদিনরা শত্রু বাহিনীর উপর নজরদারি ছাড়াও ড্রোনগুলোকে বিভিন্ন ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে হামলার জন্য ব্যবহার করছেন।

প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের কিছু স্থির চিত্র দেখুন…

১টি মন্তব্য

  1. আল্লাহু আকবার

    সে যুগ পেছনে ফেলে এসেছে আল-কায়েদার ভাইয়েরা। যখন এক বা দুই জন মুজাহিদ শুধুমাত্র শত্রুদের নিরাপত্তা ব্যয় বাড়িয়ে জনগণ থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করে দিতে কোথাও চোরাগুপ্তা একটা হামলা বা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অথবা ইস্তিশহাদি হামলা চালাতেন।

    আর আজ আলহামদুলিল্লাহ একটা সুগঠিত বাহিনী গঠন করে পুরো একটি দেশ বা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শরিয়াহ বাস্তবায়নের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিচ্ছেন।

    আল্লাহ্‌ তাআলা উনার সাহায্যের সকল দুয়ার ভাইদের জন্য খুলে দিন, আমীন

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধইমারাতে ইসলামিয়ার ফারিয়াব প্রদেশে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে নতুন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র চালু